কিউই ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা - কিউই ফলের দাম
কিউই ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা ও কিউই ফলের দাম জানতে চাচ্ছেন তো ? হ্যাঁ ! আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। পোস্টটি পড়তে থাকুন এক এক করে কিউই ফল সম্পর্কে বিস্তারিত খুঁটিনাটি সবকিছু পরিষ্কারভাবে জানতে পারবেন।
এই ফলটির সাথে আমরা বেশিরভাগ মানুষই অপরিচিত। কারন এটি আমাদের দেশের স্থানীয় ফল নয়। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশেও এই ফলটি পাওয়া যায়। খুবই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফলটি বর্তমানে আমাদের দেশের অনেকের কাছে ভালই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
সূচীপত্র - কিউই ফল খওয়ার উপকারিতা অপকারিতা ও কিউই ফলের দাম
- কিউই ফল
- কিউই ফলের পুষ্টিগুণ
- কিউই ফল খাওয়ার উপকারিতা
- কিউই ফলের দাম বাংলাদেশে
- গর্ভাবস্থায় কিউই ফলের উপকারিতা
- কিউই ফল খাওয়ার অপকারিতা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
- কিউই ফল কিভাবে খায় খাওয়ার নিয়ম
- কিউই ফল বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায়
- উপসংহার - কিউই ফলের উপকারিতা অপকারিতা ও কিউই ফলের দাম
কিউই ফল
খুবই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ছোট সাইজের, ব্রাউন রঙের খোসাযুক্ত ফল যার ভেতরটা সবুজ বা
হলুদ রঙের এবং মিষ্টি ও টক স্বাদের হয়ে থাকে। এই ফলটি প্রচুর ভিটামিন সি ও
ফাইবার সমৃদ্ধ। এই ফলটি সাধারণত কাঁচা খাওয়া হয়, তবে সালাদ, ডেজার্ট,
স্মুদিতেও ব্যবহার করা হয়। এই ফলটির আদি নিবাস চীন। তবে এটি বর্তমানে
নিউজিল্যান্ড সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
আমাদের দেশেরও বিভিন্ন জায়গায় এই ফলটির গাছ আছে। তবে খুব কম। এই ফলটি আমাদের
দেশে বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। বাইরে থেকে আমদানি করার ফলে ফলটির দাম একটু বেশি
পড়ে। তবে আমাদের দেশেও পাওয়া যায়।
কিউই ফলের পুষ্টিগুণ
কিউই খুবই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি ফল। খেতেও টক মিষ্টি স্বাদের। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এই ফলে যে পুষ্টি উপাদান গুলো রয়েছে তা আমাদের শরীরের জন্য অনেক জরুরী। আমরা যদি আগে এর পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে একটু ধারণা নেই তাহলে এর উপকারিতা অপকারিতা বুঝতে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। এতে রয়েছে
- ভিটামিন এ
- ভিটামিন সি
- ভিটামিন ই
- ভিটামিন কে
- পটাশিয়াম
- ক্যালসিয়াম
- আয়রন
- ম্যাগনেসিয়াম
- ফাইবার
- ফোলেট
- এন্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি
তাহলে বুঝতে পারছেন এর ভিতরে কি কি ভিটামিন রয়েছে। এই ভিটামিন গুলো আমাদের শরীরে
জন্য অনেক জরুরী। তাই এ ভিটামিন যদি পেতে চান তাহলে কিউই ফল খেতে পারেন।
কিউই ফল খাওয়ার উপকারিতা
কিউই ফল খাবার উপকারিতা অনেক রয়েছে। উপরে কিউই ফলে থাকা পুষ্টিগুণ দেখে
বুঝতেই পারছেন এটি আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারী। যদিও এটি আমাদের দেশের
স্থানীয় ফল নয় তবুও অনেকেই এই ফলটি পছন্দ করেন। কিউই ফল টক ও মিষ্টি স্বাদের
হওয়ায় এটি অনেকের কাছে আরও বেশি পছন্দের হয়ে থাকে। কিউই ফলের অনেক উপকারিতা
রয়েছে।
আরো পড়ুন : অ্যাভোকাডো ফল খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা
অনেক বিশেষজ্ঞরা আছে যারা এই ফলকে সুপার ফুড ও বলে থাকেন। তাছাড়া স্বাস্থ্যের
জন্য বড় বড় রোগের সমাধান রয়েছে এই কিউই ফলে। তাহলে চলুন আর দেরি না করে দেখে নিন ছোট্ট এই কিউই ফলে কি কি উপকারিতা রয়েছে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে : কিউই একটি টক মিষ্টি জাতীয় ফল। এটি ভিটামিন সি এর বড় একটি উৎস। ভিটামিন সি আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- হজম শক্তি বাড়ায় : এ ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে যা পাক যন্ত্রের হজম কার্যের সাহায্য করে ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যর হাত থেকে দূরে রাখে।
- ত্বকের যত্নে : কিউই ফলে থাকা ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই আমাদের ত্বকের জন্য অনেক বেশি উপকারী। এটি ত্বককে সুন্দর মসৃণ ও চকচকে করে তুলে।
- হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে : এতে থাকা পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়ক। তাছাড়া এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হ্রাস করে।
- ওজন কমাতে সাহায্য করে : এই ফলে ক্যালরি পরিমাণ খুব কম থাকে এবং এটি আমাদের পেট বেশিক্ষণ ভরিয়ে রাখে ফলে খাবার গ্রহণের প্রতি আকর্ষণ কম থাকে ফলে শরীরের ওজন দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।
- রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ : এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হয় রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অনেক উপকারী একটি ফল।
- মেজাজ ভালো রাখে : এতে সেরোটেনিন নামক একটি হরমোন থাকে যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় ফলে খিটখিটে মেজাজ দূর করে, চিন্তা মুক্ত করে মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে।
- ভালো ঘুমে সহায়তা করে : এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং মেজাজ ঠান্ডা রাখে ফলে ভালো ঘুম হওয়ার জন্য সহায়তা করে।
- চুল পড়া কমায় : কিউই ফলে ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি উপাদান থাকে যে উপাদান গুলো আমাদের চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
- দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে : এর ফলে ভিটামিন এ ও প্রচুর পরিমাণে ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা আমাদের চোখের পানি পড়া ও বয়স জনিত কারণে চোখের যে সমস্যাগুলো হয় তা থেকে দূরে রাখে।
কিউই ফলের দাম বাংলাদেশে
কিউই ফলের দাম জানার জন্য অনলাইনে অনেকেই সার্চ করে থাকেন। যেহেতু এটি বাহিরের
দেশের একটি ফল, আমদানি করে আমাদের দেশে আনা হয় সেহেতু এই ফলের দাম একটু বেশি।
তবে সব জায়গায় এই ফলটি পাওয়াও মুশকিল। কিউই ফলের দাম বিভিন্ন স্থান ভেদে এবং
ফলের গুণগত মানের উপর নির্ভর করে। ফলের মান ভালো হলে দামও একটু বেশি হয়।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের হিসেবে প্রতি কেজি কিউই ফলের দাম দেখা যায় ৮০০ থেকে ১২০০
টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাছাড়া এই দামটি ফলের সাইজ এবং গুণগত মানের উপর নির্ভর করে একটু কম
বেশি হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের সুপারমার্কেট, ফলের দোকান বা বর্তমানে অনলাইনের
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও এই ফলটি পেয়ে যাবেন। সময়ের সাথেও এর দাম কিছুটা কম বেশি
হতে পারে।
তাই আপনি যদি এ ফলটি কিনতে চান তাহলে অনলাইনে বা বিভিন্ন সুপারমার্কেটে দেখেশুনে
কিনতে পারেন। এটি খুবই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল যা আপনার শরীরের অনেক উপকারে আসতে
পারে।
গর্ভাবস্থায় কিউই ফলের উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় একজন মহিলার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। এই সময়টিতে অনেক
বেশি সতর্ক থাকতে হয়। পাশাপাশি গর্ভবতী মা অনেক বেশি ব্যস্ত হয়ে যায় তার
গর্ভের সন্তানের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য। এ সময় কত কি না খেয়ে থাকে।
গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের খাবারের দিকে আলাদা ভাবে একটি নজরদারি করতে হয়।
আলাদা একটি খাবার তালিকা তৈরি করা হয়।
আরো পড়ুন : রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
সবসময়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয় গর্ভবতী
মাকে। পুষ্টিকর শাকসবজি ও ফলমূলের গুরুত্ব তো আরো অনেক বেশি। ঠিক তেমনি পুষ্টিগুণ
সমৃদ্ধ একটি ফল হচ্ছে কিউই ফল। এই ফলটি গর্ভবতী মা এবং গর্ভের সন্তানের জন্য অনেক
বেশি উপকারী হবে। চলুন তাহলে দেখে নিই গর্ভকালীন সময়ে এই ফলটি খেলে কি কি
উপকারিতা পাওয়া যায়।
- কিউই ফল ফোলেট এর ভালো একটি উৎস। এটি গর্ভে থাকা শিশুর শারীরিক বিকাশে খুবই সহায়ক। ফোলেট শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদন্ড গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই ফল ফাইবার যুক্ত হওয়ায় এটি হজমে সাহায্য করে এবং গর্ভকালীন সময় কোষ্ঠকাঠিন্যর হাত থেকে দূরে রাখে।
- এই ফল ভিটামিন সি এর অনেক ভালো একটি উৎস। ভিটামিন সি গর্ভবতী মা এবং গর্ভে থাকা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে এবং রক্তশূন্যতা দূর করে।
- কিউই ফলে পটাশিয়াম থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং গর্ভকালীন সময়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক।
- গর্ভকালীন সময়ে এটি শরীরের অতিরিক্ত ওজন জামাতে বাধা দেয় এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
- এই ফলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হয় এটি রক্তের শর্করার স্তর কমাতে সাহায্য করে যা গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে অনেক বেশি সহায়ক।
- কিউই ফলে সেরোটোনিন নামক এক ধরনের হরমোন থাকে যা মেজাজ ঠান্ডা রাখে ফলে গর্ভকালীন সময়ে মেজাজ খিটখিটে, ঘন ঘন মুড সুইং ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে সহায়ক।
- এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে যা শিশুর হাড় গঠনের জন্য উপকারী।
- গর্ভকালীন সময়ে গর্ভবতী মা প্রায় ই রক্তশূন্যতায় ভুগে থাকেন। এই ফলে আয়রন থাকে যা রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।
এছাড়াও গর্ভকালীন সময়ে কিউই ফল খাওয়ার ফলে গর্ভবতী মা আরও অনেক উপকারিতা ভোগ
করতে পারে। তাই এই উপকারিতা গুলো পেতে গর্ভবতী মাকে নিয়মিত কিউই ফল খাওয়াতে
পারেন। এটি খুবই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ যা গর্ভবতী মা এবং গর্ভে শিশুর জন্য কতটা
উপকারী তা ওপরে দেখলেন।
কিউই ফল খাওয়ার অপকারিতা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
কিউই ফল খাওয়ার উপকারিতা দেখে বুঝলেন এটি কতটা পুষ্টিকর একটি ফল। এতক্ষণে এর অনেক উপকারিতা দেখলেন। কিন্তু প্রতিটা জিনিসেরই উপকারিতা থাকার পাশাপাশি কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও থাকে। সেই দিকেই আমাদের খেয়াল রাখা জরুরি। এই ফলটিও ঠিক তেমন কিছু কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চলুন তাহলে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলো এক নজরে দেখে নিই।
- কিছু কিছু মানুষের কিউই ফল খাওয়ার ফলে এলার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
- ফলটির অ্যাসিটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে কারো কারো মুখে ঝাল বা জ্বালার সৃষ্টি হতে পারে।
- কিউই একটি ফাইবার বিশিষ্ট ফল। অতিরিক্ত খাবার ফলে ডায়রিয়া বা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যার কারণ হতে পারে।
- যারা ব্লাড থিনার ওষুধ খায় তাদের জন্য এটি ঝুঁকি স্বরূপ। কেননা এতে ভিটামিন কে ও রক্ত পাতলা করা উপাদান থাকে যা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
- এছাড়াও এটি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পেট ব্যথা বা পেটে অস্বস্তি ভাব হতে পারে।
- অনেক লোক আছে যারা কিউই ফলের সংস্পর্শে আসলে চুলকানি বা এলার্জি দেখা দিতে পারে।
কিউই ফল এর অপকারিতার তুলনায় উপকারিতা অনেক বেশি। তবে এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
গুলো তখনই দেখা দিবে যখন আমরা অতিরিক্ত পরিমাণে খাব বা আগে থেকেই কারো কোন ধরনের
সমস্যা থেকে থাকলে। যাদের এই ফলে সমস্যা তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। ফলটি
খেয়ে যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো হবে।
কিউই ফল কিভাবে খায় খাওয়ার নিয়ম
কিউই ফল খাওয়ার বেশ কিছু জনপ্রিয় উপায় রয়েছে। এটি খাওয়ার আলাদা তেমন কোন নিয়ম নেই। বিভিন্নভাবে খুব সহজেই এই ফলটি খাওয়া যায়। শুধুমাত্র এই ফল কাঁচাও খেতে পারেন আবার অন্য কোন ফলের সাথে মিশিয়েও খেতে পারে। ফলটি খাওয়ার কিছু জনপ্রিয় পদ্ধতি নিচে উল্লেখ করা হলো। চলুন এক নজরে পদ্ধতি গুলো দেখে নেয়া যাক।
- প্রথমে একটি ফল নিয়ে মাঝখান বরাবর কেটে একটি চামচ দিয়ে ভেতরের সবুজ বা হলুদ অংশটুকু তুলে নিয়ে সরাসরি খেতে পারেন। ফল থেকে খোসা ছাড়িয়ে কেটে ফালা ফালা করেও খাওয়া যায়।
- এর খোসা ছাড়িয়ে নিজের ইচ্ছেমতো কেটে সালাদের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।
- কিউই ফল অন্যান্য ফলের সাথে একত্রে ব্লেন্ড করে স্মুদি বা জুস করে খেতে পারেন এতে করে এর পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি পায় এবং ও একটি আলাদা ফ্লেভার আনে।
- এই ফলটি ডেজার্টের সাথে খাওয়া যেতে পারে। এটি ডেজার্ট এর পুষ্টিগুণ এবং স্বাদ বৃদ্ধি করে।
- কিউই ফল দিয়ে টক মিষ্টি ঝাল আচার বানাতে পারেন।
- আপনি এটি রান্নার বিভিন্ন রেসিপিতে সিদ্ধ করেও ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় এর পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে।
এছাড়াও এই ফলটি খাওয়ার আরো বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। আপনি আপনার ইচ্ছা মত যে কোন পদ্ধতিতে খেতে পারেন। একটি বিষয় মনে রাখবেন, কিউই ফল কাটার পর যত দ্রুত সম্ভব খেয়ে ফেলবেন তাছাড়া অক্সিডাইজড হয়ে দ্রুত বাদামী বর্ণের হয়ে যেতে পারে। যদি এই ফল ভালোভাবে না পেকে শক্ত থাকে, তাহলে ঘরের ভেতর কয়েকদিন রেখে দিলে ভালোভাবে পেকে যাবে।
কিউই ফল বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায়
কিউই ফল বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক জায়গায় পাওয়া যায় যদিও এটি আমাদের দেশের
স্থানীয় ফল নয়। কিন্তু বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় এর গাছও রয়েছে। সাধারণত
বড় বড় শহরগুলোতে এবং সুপার মার্কেটে কিউই ফল সহজেই পাওয়া যায়। যেমন ঢাকা
যমুনা ফিউচার পার্ক, আগ্রাবাদ শপিং কমপ্লেক্স, মিনা বাজার, কারওয়ান বাজার,
ক্যারিফোর ইত্যাদি।
এরকম জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসে পাবেন। তাছাড়া বর্তমানে অনেক অনলাইন মার্কেটপ্লেসেও
সহজে কিউই ফল পেতে পারেন। এছাড়াও বড় বড় ফলের দোকানেও কেউই ফল পাওয়া যায়।
কিছু কিছু উন্নত কৃষি বাজার বা ফার্মারস মার্কেটেও খোঁজ করলে এই ফল পেতে
পারেন।
উপসংহার - কিউই ফলের উপকারিতা অপকারিতা ও কিউই ফলের দাম
প্রিয় পাঠক, কিউই ফলের উপকারিতা, অপকারিতা ও কিউই ফলের দাম সহ কিউই ফল সম্পর্কে
এতক্ষণে বিস্তারিত সবকিছু জানলেন। এটি খুবই উপকারী একটি ফল। এমন কি গর্ভকালীন
সময়েও এটি বেশ উপকারী। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান গুলো আমাদের শরীরের জন্য
অনেক প্রয়োজনীয়। তাই পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে দিতে চাইলে নিয়মিত ফলটি খেতে
পারে।
ফলটি খাওয়ার আগে অবশ্যই উপরে বর্ণিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো খেয়াল রাখবেন এবং
অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। যদি সঠিক নিয়মে ও পরিমান মত নিয়মিত খান তাহলে
অবশ্যই এর উপকারিতা গুলো পেয়ে যাবেন। আশা করি বিস্তারিত সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে
পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। এতক্ষণ থাকার জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ😍
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url