মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও অপকারিতা - গর্ভাবস্থায় মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান ? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। অনেকেই মিষ্টি কুমড়া খেতে খুবই পছন্দ করেন কিন্তু এর উপকারিতা বা অপকারিতা সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা রাখেন না তাই মিষ্টি কুমড়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

মিষ্টি কুমড়া খুবই জনপ্রিয় এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সবজি। এতে রয়েছে ভিটামিন এ ভিটামিন সি ভিটামিন-ই, ভিটামিন বি৬, থায়ামিন, নিয়াসিন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং উচ্চমাত্রার ফাইবার বা আশ। এবারে মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা গুলো জেনে নেওয়া যাক।

পোস্ট সূচিপত্র - মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা অসাধারণ। মিষ্টি কুমড়া খুবই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং বেশিরভাগ মানুষেরই পছন্দের একটি সবজি। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রেসিপিতে আমরা মিষ্টি কুমড়া খেয়ে থাকি। মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা সত্যি অবাক করার মতো। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। চলুন এক নজরে মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা গুলো দেখে নেয়া যাক।

  1. ভিটামিন এ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
  2. এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যার ফলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে থাকা যায়।
  3. মিষ্টি কুমড়ায় এন্টি অক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকার কারণে এটি মারাত্মক কিছু রোগ যেমন ক্যান্সার ডায়াবেটিক ও হৃদরোগের ঝুঁকি থেকেও দূরে রাখে।
  4. মিষ্টি কুমড়া পর্যাপ্ত ভিটামিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি নিয়মিত খেলে ত্বক কোমল ও মসৃণ থাকে।
  5. মিষ্টি কুমড়ায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
  6. মিষ্টি কুমড়ায় কার্বোহাইড্রেট ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম আইরন এসব উপাদান পাওয়া যায় যেগুলো শরীরের শক্তি ও পুষ্টি যোগায়।
  7. মিষ্টি কুমড়া কম ক্যালরি ও উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।
  8. এই সবজি নিয়মিত খেলে এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে ফলে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ থেকে দূরে থাকা যায়।
  9. এতে থাকা বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন সি ফাইবার শরীর থেকে দূষিত পদার্থ নিষ্কাশিত করে যার ফলে লিভার ভালো থাকে।
  10. নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খেলে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত থাকে

গর্ভাবস্থায় মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি মায়ের পর্যাপ্ত পরিমাণ মিষ্টি কুমড়া খাওয়া উচিত। কারণ এতে প্রচুর ভিটামিন থাকে যা গর্ভবতী মায়ের শরীরে অনেক বেশি শক্তি যোগায় এবং হজম ভালো করে। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকে যা গর্ভের শিশুকে অক্সিজেন পেতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রক্তশূন্যতা রোধেও সাহায্য করে। এবারে বিস্তারিত জেনে নিন।

গর্ভাবস্থায় মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার উপকারিতা

পেট ব্যথা কমাতে: মিষ্টি কুমড়াতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম পেট ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। তাই গর্ভকালীন যে কোন রকম পেট ব্যথা খিচুনির থেকে সুরক্ষা পেতে মিষ্টি কুমড়া খান।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে মিষ্টি কুমড়া সহায়তা করে। তবে কোনোরকম মিষ্টি বা চিনি ছাড়া মিষ্টি কুমড়া খেলে সঠিক উপকার গ্রহণ করতে পারবেন।

পেটের ক্র্যাম্প গুলিতে সাহায্য করে: গর্ভাবস্থায় পেটের ক্রাম্প গুলি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মিষ্টি কুমড়া খুব ভালো কাজ করে। গর্ভাবস্থায় ক্রাম থেকে মুক্তি পেতে যেকোনো ধরনের কুমড়া সেবন করা যায়।

ভ্রুনের মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে: কুমড়ার বীজ ওমেগা ও ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ। এই উপাদানগুলো ভ্রুনের মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে।

গর্ভকালীন ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে: কুমড়ার বীজে ইনসুলিন থাকে যা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ হলে খুব ভালো কাজ করে। তাই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থেকে সুরক্ষিত থাকতে চাইলে কুমড়ার বীজ নিয়মিত সেবন করুন।

ডায়রিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে: গর্ভাবস্থায় ডায়রিয়া এবং একজিমা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। মিষ্টি কুমড়া আমাদের অন্ত্র থেকে কৃমি অপসারণ করে এবং প্লীহা পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে যার ফলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কমে যায়।

হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে: কুমড়ার বীজ হার্টের জন্য খুবই উপকারী। এটি হার্টকে সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে সহায়তা করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে: গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের জন্য পাচনতন্ত্রের বাধার সৃষ্টি হতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেহেতু মিষ্টি কুমড়া প্রোটিন এবং ফাইবারের খুব ভালো উৎস তাই একটি হজম ভালো করবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে রাখবে।

মুড সুইং নিয়ন্ত্রণ রাখতে: গর্ভাবস্থায় মুড সুইং খুবই স্বাভাবিক। কুমড়োর বীজে থাকা জিংক মেজাজ এর পরিবর্তন ধরে রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন : তোকমা দানার উপকারিতা

ভালোভাবে ঘুমাতে সহায়তা করতে পারে: কুমড়ার বীজে একটি অ্যামিনো এসিড ট্রিপ্টফিন যেটা মেলাটোনিনে রূপান্তরিত হয় এটা একটা ঘুমের হরমোন। তাই ঘুমের সমস্যা রোধ করতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েকটি কুমড়ার বীজ খেয়ে দেখতে পারেন।

ত্বকের সুস্বাস্থ্যে মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা

ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভিটামিন এ,ভিটামিন ই এবং ভিটামিন সি প্রয়োজন। এগুলো সব পাওয়া যাবে মিষ্টি কুমড়াতে, জানান শিকাগোভিত্তিক পুষ্টিবিদ ম্যাগি মিখাইলজিক। এক কাপ মিষ্টি কুমড়াতে ১০ মাইক্রগ্রাম ভিটামিন সি, ১৯০০ মাইক্রগ্রাম ভিটামিন এ এবং ২.৫ ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

ম্যাগি মিখাইলজিক আরো বলেন, বিটা ক্যারোটিন পরিবর্তিত হয়ে ভিটামিন এতে রূপ নেয় যা অতিবেগুনি রশির কারণে হাওয়া ত্বকের ক্ষতি পোষায়। ভিটামিন ইকোলজি উৎপাদন বৃদ্ধি করে ত্বক আদ্র রাখে। আর ফ্রি রেডিকেল থেকে হওয়া ক্ষতি ভিটামিন ই পূরণ করে যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই সুন্দর ত্বক পাওয়ার জন্য খাবার তালিকায় মিষ্টি কুমড়া রাখুন।

চোখের জন্য মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা

ভিটামিন এ চোখের জন্য উপকারী এই কথা আমরা সবাই জানি। মিষ্টি কুমড়ায় থাকা নানা রকম ভিটামিন খনিজ এর মধ্যে একটি হলো বেটা -ক্যারোটিন। এই এন্টিঅক্সিডেন্ট এর কারণেই মূলত মিষ্টি কুমড়ার রঙ হয় উজ্জ্বল কমলা। এছাড়াও এতে থাকে লুটেইন এবং জিয়াক্সানথিন যা বয়স জড়িত কারণে হওয়া দৃষ্টিশক্তি কমার থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা

ম্যাগী মিখাইলজিক বলেন, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর উৎস হিসাবে মিষ্টি কুমড়া হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে সহায়তা করে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ কার্ডিওলজি তথ্য মতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে বা কমাতে পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরো পড়ুন : চিয়া সিড এর উপকারিতা ও অপকারিতা

উচ্চ রক্তচাপ সরাসরি হৃদস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। এছাড়াও ফাইবার রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে। ফলে নানান ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। এসব কিছু মিষ্টি কুমড়াতে পাওয়া যায়। তাহলে বুঝতে পারছেন মিষ্টি কুমড়া হৃদস্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী।

মিষ্টি কুমড়ার বীজের উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়ার বীজ আমাদের শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। খাওয়ার অযোগ্য ভেবে মিষ্টি কুমড়ার বীজ অনেকেই ফেলে দেয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই বীজ হতে পারে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর একটি বড় উৎস। এতক্ষন মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানলেন এবারে মিষ্টি কুমড়ার বীজের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।

মিষ্টি কুমড়ার বীজের উপকারিতা

  1. মিষ্টি কুমড়ার বীজ এ নানা রকম ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন রকম সংক্রমনের হাত থেকেও দূরে রাখে।
  2. মিষ্টি কুমড়ার বীজে পর্যাপ্ত পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম থাকে। ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।
  3. মিষ্টি কুমড়ার বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, জিংক, সালফার যেগুলো আমাদের চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
  4. মিষ্টি কুমড়ার বীজ আমাদের শরীরে ইনসুলিন সরবরাহ করে যা ডায়াবেটিস রোগীদের অনেক বেশি উপকারী।
  5. ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ এই বীজ রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
  6. এটি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় হজম হতে দেরি হয় যাতে করে ক্ষুধা কম লাগে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
  7. মিষ্টি কুমড়ার বীজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও সহায়তা করে।
  8. হার্টের সুস্থতায় মিষ্টি কুমড়ার বীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  9. মিষ্টি কুমড়ার বীজে ডাই হাইড্রো এপি অ্যান্ড্রসটেনেডিউন নামক উপাদান থাকে যা প্রটেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
  10. মিষ্টি কুমড়ার বীজে ট্রিপ্টফিন  নামক অ্যামিনো এসিড থাকে যা ভাল ঘুমাতে সাহায্য করে ।
  11. এটি পুরুষ মানুষের দেহে টেস্টোস্টেরন বাড়াতে সাহায্য করে।

মিষ্টি কুমড়ার বীজ খাওয়ার নিয়ম

এতক্ষণ বীজের উপকারিতা সম্পর্কে জানলেন এবারে বীজ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিন। বিচি খাওয়ার তেমন কোন ধরা বাধা নিয়ম নেই। মিষ্টি কুমড়ার বীজ প্রচুর ক্যালরি এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ। তাই পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি কুমড়ার বীজ খাওয়া খুবই উপকারী। প্রতিদিন একজন সুস্থ ব্যক্তি একমুঠো বা ১৫-২০ টির মতো বীজ খেতে পারেন।

রোদে শুকিয়ে আপনি মিষ্টি কুমড়ার বীজ খুব সহজেই সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। তরকারিতে বীজ যোগ করলে খাবারের পুষ্টিমান বেড়ে যায়। এছাড়া সালাদ হিসেবে সকাল বিকালের নাস্তা বা ড্রাই ফুড হিসেবে অথবা অল্প তেলে ভেজে খাওয়া যায়।

মিষ্টি কুমড়া খেলে কি গ্যাস হয়

এতক্ষণ শুধু মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা জানলেন এবারে এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন। যেকোনো খাবারই মাত্রা অতিরিক্ত গ্রহণে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় মিষ্টি কুমড়ার বিষয়টিও ঠিক তেমন। অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমাণ মতো খান আর উপকারিতা গ্রহণ করুন।

মিষ্টি কুমড়া খেলে কি এলার্জি হয়

অনেকেই চিন্তায় থাকেন মিষ্টি কুমড়া খেলে এলার্জি হয় কি না ? এ প্রশ্নের উত্তরে বলব, হ্যাঁ ! কিছু কিছু মানুষের এলার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এলার্জি আছে কিনা সেটা বোঝার জন্য আগে খেয়ে দেখতে হবে যদি কোন সমস্যা দেখা দেয় তাহলে ধরে নিবেন আপনার মিষ্টি কুমড়াতে এলার্জি আছে।

আর যদি কোন সমস্যা দেখা না দেয় তাহলে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। তবে কোন সমস্যা দেখা দিলে না খাওয়াই ভালো আর যদি খেতে চান তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।

মিষ্টি কুমড়াতে কি কি ভিটামিন থাকে

এতক্ষণে মিষ্টি কুমড়ার উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছেন এবারে জেনে নিন মিষ্টি কুমড়াতে কোন কোন ভিটামিন রয়েছে। মিষ্টি কুমড়া খুবই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটি সবজি যেটা আমরা কমবেশি সবাই পছন্দ করি। যারা পছন্দ করেন না বা খান না কিন্তু উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরো পড়ুন : অ্যাভোকাডো ফল খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা

মিষ্টি কুমড়া কে কিন্তু পুষ্টি উপাদানের পাওয়ার হাউস বলা যেতেই  পারে। মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর খনিজ লবণ, এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, লোহা ও ফসফরাসের মত খনিজ উপাদান। এতগুলো সব পুষ্টিগুণ একসাথে পেতে চাইলে পরিমিত পরিমানে মিষ্টি কুমড়া খান।

মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার অপকারিতা

মিষ্টি কুমড়া অনেকেরই খুব পছন্দের খাবার। তাই নিয়মিত খাদতালিকায় স্থান পায় পুষ্টিকর এই খাবারটি। এর উপকারিতার কোন শেষ নেই। তবে প্রচুর পরিমাণে খাওয়া কি শরীরের জন্য ভালো ?অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে কি কি ক্ষতি হতে পারে এবারে জেনে নিন।

রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে বা কমাতে মিষ্টি কুমড়ার জুড়ি নেই। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যেতে পারে। আবার অন্যান্য খাবারের থেকে এটি হজম করা কঠিন তাই অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে পেটে হজম জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও মিষ্টি কুমড়াতে প্রচুর ক্যালরি থাকে যে কারণে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খান আর উপকারিতা গ্রহণ করুন।

পরিশেষে- মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

মিষ্টি কুমড়া খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা ও মিষ্টি কুমড়ার বীজ খাওয়ার উপকারিতা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিস্তারিত জানলেন। আশা করি পোস্টটি পড়ে বুঝতে পেরেছেন নিয়মিত খাদ্য তালিকায় মিষ্টি কুমড়া রাখা কতটা উপকারী।

তাই মিষ্টি কুমড়া থেকে যথাযথ উপকারিতা পাওয়ার জন্য নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি কুমড়া খান। আশা করি পোষ্টটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ😍


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url