চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার - নিম পাতার ক্ষতিকর দিক

চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার ও নিমপাতার ক্ষতিকর দিক নিয়ে আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। নিম পাতা কতটা উপকারী তা আপনারা সবাই জানেন। প্রাচীনকাল থেকেই চর্মরোগে নিম পাতা একটি প্রাকৃতিক ও কার্যকারী উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার

আমরা নিম পাতার উপকারিতা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু নিম পাতার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে কজন অবগত আছি ? তাই আজকে নিম পাতার ক্ষতিকর দিকসহ নিমপাতা নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু পরিষ্কারভাবে আলোচনা করব।

সূচীপত্র - চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার ও নিম পাতার ক্ষতিকর দিক 

চর্মরোগ কি

চর্মরোগ বলতে সাধারণত আমাদের শরীরের যেই স্কিন বা চামড়া রয়েছে সেই চামড়ার রোগকে চর্মরোগ বলে। চর্মরোগ খুবই মারাত্মক একটি রোগ। প্রথমে এটি শরীরের যেকোনো একটি জায়গায় অল্প পরিসরে বাসা বাঁধে। এরপর আস্তে আস্তে এটি বাড়তেই থাকে। সঠিক চিকিৎসা না করলে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এমনকি চর্ম রোগের কারণে স্কিন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা পর্যন্ত থাকতে পারে।

চর্ম রোগের মধ্যে বিভিন্ন ভাগ রয়েছে। সাধারণত চামড়াতে যে রোগগুলো হয়ে থাকে সেগুলোকেই আমরা চর্মরোগ বলে থাকি। যেমন চুলকানি, দাউদ, এলার্জি, পাচড়া, ঘামাচি, ব্রণ ইত্যাদি। এর মধ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কিছু বিষয় নিয়ে আপনাদের সাথে নিচে আরো আলোচনা করব। তাই সবকিছু ভালোভাবে জানতে মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন।

চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার

চর্ম রোগের জন্য নিম পাতা খুবই কার্যকরী এবং প্রাকৃতিক একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ। যা আমরা অনেকেই ব্যবহার করে আসছি অনেকদিন আগে থেকেই। চর্মরোগ এমন একটি মারাত্মক রোগ যার ফলে আমরা আস্তে আস্তে অনেক খারাপ পর্যায়ে চলে যায়। তাই এরকম পর্যায়ে যাওয়ার আগেই আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক হয়ে যথাযথ চিকিৎসা করা দরকার।

আরো পড়ুন : বিটরুট পাউডারের ১০ টি উপকারিতা

বিশেষ করে স্যাঁতস্যতে পরিবেশে থাকার কারণে চর্মরোগ হওয়া সম্ভাবনা বেশি দেখা দেয়। তাই বর্ষাকালে এ রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। এদিকেও আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। চর্মরোগ নিরাময়ের জন্য নিম পাতা অনেক বেশি উপকারী। চর্ম রোগ নিরাময়ের জন্য আমরা অনেকভাবে নিম পাতার ব্যবহার করতে পারি। চলুন তাহলে কিছু পদ্ধতি জেনে নেয়া যাক।

নিম পাতার পেস্ট : এর জন্য প্রথমে আপনাকে কয়েকটি কাঁচা সতেজ নিমপাতা নিতে হবে। এরপর নিমপাতা গুলো ভালোভাবে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর এগুলো ব্লেন্ডারে বা শিল পাটাতে ভালোভাবে বেটে পেস্ট করতে হবে। তারপর সেই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে ভালোভাবে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

এতে করে চর্ম রোগ থেকে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়। পেস্ট তৈরি করার সময় প্রয়োজনে পেস্ট মসৃণ করার জন্য সামান্য পরিমাণে পানি মেশাতে পারেন। পাতা পেস্ট করার আগে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন।

নিম পাতার রস : নিম পাতার পেস্ট যেমন ব্যবহার করা যায় তেমন নিম পাতার রস ব্যবহার করলে উপকারিতা পাওয়া যায়। এর জন্য কাঁচা নিমপাতা নিয়ে পরিস্কার পানিতে ধুয়ে একটি বাটিতে নিয়ে হাত দিয়ে মসলিয়ে রস সংগ্রহ করতে পারেন। সংগ্রহ করা রস আক্রান্ত স্থানে লাগাতে হবে। এ রস আপনি খেতেও পারেন। এভাবে ব্যবহার করলে আশা করা যায় লাভবান হবেন।

নিম পাতার পাউডার : নিম পাতার পাউডার বানানোর জন্য আপনাকে কিছু নিমপাতা নিয়ে রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকনো নিমপাতা গুলো ভালোভাবে পাউডার করে নিতে হবে। এই পাউডার আপনি চর্ম রোগের ক্রিম এর সাথে যোগ করে ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া নিমপাতা পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলেও অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়।

এছাড়াও চর্ম রোগের জন্য নিম পাতা অনেকভাবে ব্যবহার করা যায়। আপনি এর মধ্যে যেকোনো একভাবে ব্যবহার করলে আশা করা যায় চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাবেন। তবে নিম পাতা ব্যবহার করার পরও যদি কোন সুফল না মেলে তাহলে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। চর্ম রোগ নিয়ে বসে থাকা ঠিক হবে না এটি একটি মারাত্মক রোগ।

নিম পাতার ক্ষতিকর দিক বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

নিম পাতার ক্ষতিকর দিক নিয়ে আপনাদের সাথে এখন আলোচনা করব। কারণ এর উপকারিতা সবাই কমবেশি জানলেও এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বেশিরভাগ প্রায় সবাই কোন খেয়াল রাখে না। আপনি যদি উপকারিতা গ্রহণ করতে চান তাহলে এর ক্ষতিকর দিক বা প্রতিক্রিয়া অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। তাছাড়া আপনি আপনার কাঙ্খিত সুফল পেতে বাধাগ্রস্ত হবেন।

আরো পড়ুন : পুরুষের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম উপকারিতা ও অপকারিতা

তাই আগে নিম পাতার ক্ষতিকর দিক বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। নিম পাতা যদিও অনেক উপকারী তবে এর কিছু সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাহলে চলুন নিম পাতার সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকারক দিকগুলো দেখে নিই।

  • ত্বকে নিম পাতার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেক সময় এটি ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে। তাই পুরো ত্বকে ব্যবহারের পূর্বে একটি ত্বকের ছোট অংশে ব্যবহার করে পরীক্ষা করে নেয়া উচিত।
  • নিম পাতা ব্যবহারের ফলে অনেকের এলার্জিজনিত সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • গর্ভবতী মায়েদের নিমপাতা ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এতে গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
  • শিশুদের জন্য নিম পাতা ব্যবহারে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের জন্য নিমপাতা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
  • নিম পাতা খাওয়ার ফলে অনেক সময় ডায়রিয়া, পেট ব্যথা সহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।
  • অন্যান্য ঔষধ ব্যবহার করতে করতে নিম পাতা খেলে ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে ইত্যাদি।

দেখে নিলেন নিম পাতার সম্ভাব্য কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। নিম পাতা ব্যবহারের আগে অবশ্যই এ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া গুলো মনে রাখবেন। তাছাড়া সব কিছু না জেনে ব্যবহার করতে গেলে উপকারের পরিবর্তে আপনি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই সব বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত। চলুন এবার তাহলে আমরা চুলকানিতে নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কে জেনে নিন।

চুলকানিতে নিমপাতার ব্যবহার

চুলকানি একটি চর্মরোগ। চুলকানিতে নিমপাতা ব্যবহার বহুল পরিচিত। নিম পাতা চুলকানিতে ব্যবহারের ফলে চুলকানির হাত থেকে রেহায় পাওয়া যায়। আমরা প্রাচীনকাল থেকেই দেখে আসছি চুলকানির জন্য নিম পাতা অনেক বেশি উপকারী। চুলকানিতে নিমপাতা ব্যবহার করার বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। এ পদ্ধতি গুলো মেনে ব্যবহার করলে উপকারিতা পাওয়া যায়।

চুলকানিতে নিমপাতার ব্যবহার

ইতোমধ্যে আপনাদের সাথে চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার করার জন্য অনেক কয়েকটি পদ্ধতি আলোচনা করেছি। উক্ত পদ্ধতি গুলো যদি চুলকানির জন্য ব্যবহার করেন তাহলে আশা করা যায় চুলকানি থেকে মুক্তি পাবেন। এছাড়াও আপনি আরেকটি কাজ করতে পারেন। কিছু কাঁচা নিম পাতা নিয়ে বেটে সারা শরীরে ভালোভাবে লাগাতে পারেন।

কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখার পর গোসল করে নিবেন। এতে করে চুলকানি দূর হয়ে যাবে। চুলকানি খুবই ক্ষতিকর এবং বিরক্তিকর একটি রোগ। চুলকানি রোগ হলে চুলকাতে চুলকাতে অনেকের হুশ থাকে না। সেজন্য এখান থেকে চিরতরে বাঁচতে নিম পাতা ব্যবহার করতে পারেন। নিমপাতা তে থাকা ওষুধি গুণাগুণ গুলো চুলকানি দূর করতে অনেক বেশি সহায়ক।

তৈলাক্ত ত্বকে নিম পাতার ব্যবহার

তৈলাক্ত ত্বকে নিম পাতার ব্যবহার বহুল পরিচিত। আমাদের সৌন্দর্যের একটি বড় বিষয় হচ্ছে ত্বক। আর এই ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য আমরা কত কিছু যে করি তার হিসাব নেই। ত্বকের তৈলাক্ত ভাব খুবই বিরক্ত এবং বাজে একটা জিনিস। আমরা অনেক সময় এই তৈলাক্ত ভাব দূর করার জন্য বাজার থেকে অনেক নামিদামি ক্রিম প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে থাকি।

কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে নিম পাতা ব্যবহার করেই খুব সহজে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করা যায়। এর জন্য আপনি নিমপাতা কয়েক ভাবে ব্যবহার করতে পারেন। নিমপাতা ত্বকের জন্য ভালো একটি ফেসপ্যাক। ফেসপ্যাক তৈরি করার জন্য প্রথমে কাঁচা সতেজ নিম পাতা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে ভালোভাবে মসৃণ করে বেটে নিতে হবে।

তারপর সেটি ত্বকে সুন্দরভাবে মাখতে হবে। কিছুক্ষণ রাখার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেললেই ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হবে। এছাড়াও নিম পাতার গুড়া করে ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য প্রথমে কিছু নিমপাতা শুকিয়ে নিয়ে শুকনো পাতা ভালোভাবে পাউডার করতে হবে। সেই পাউডারের সাথে একটু মধু ও অলিভ অয়েল যোগ করে ত্বকে ব্যবহার করতে হবে।

আরো পড়ুন : কিউই ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা

সপ্তাহে দুই দিন এভাবে ব্যবহার করলে অনেক বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়। তাছাড়া নিমপাতা টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। কিছু নিম পাতা ভালোভাবে একটু পানিতে সিদ্ধ করে পানিটি ঠান্ডা করে একটি স্প্রে বোতলে সংরক্ষণ করতে পারেন। প্রতিদিন ফেসওয়াশের পর এই পানি ত্বকের উপর স্প্রে করে ব্যবহার করলে ত্বকের ছিদ্র ছোট হতে সাহায্য করে।

দাউদে নিম পাতার ব্যবহার

দাদ বা দাউদ চর্ম রোগের আরেকটি রোগ। চামড়ার উপরে গোল হয়ে ছোপ ছোপ দাগ পরে। দেখতে খুবই বীভৎস এবং ভয়ঙ্কর লাগে। নিম পাতা দাউদ প্রতিরোধে অনেক বেশি উপকারী। দাদ হলে দাদ এর স্থানটি অনেক বেশি চুলকায়। তাই দাউদের হাত থেকে বাঁচতে নিম পাতা ব্যবহার করতে পারেন। দাউদের জন্য নিম পাতা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়।

সবচাইতে ভালো হয় কাঁচা নিম পাতা ভালোভাবে বেটে দাদের স্থানে লাগিয়ে দিলে। এছাড়াও নিম পাতা সিদ্ধ করা পানি দিয়ে গোসল করলেও অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়। দাউদ খুবই মারাত্মক একটি রোগ। একবার হলে এটি আর সহজে ভালো হতে চাই না। কিছু কিছু ওষুধ খাওয়ার পর দেখা যায় দাউদ একদম ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু না।

কিছু দিন পর দেখা যায় আগের মত অবস্থা আবার হয়ে গেছে। সহজে ভালই হতে চাই না। তাই নিয়মিত নিমপাতা ব্যবহার করতে থাকুন। আর এতে যদি ভালো না হয় তাহলে অবশ্যই ভালো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খেতে হবে। অনেক সময় দাউদের প্রকোপ কম থাকলে নিমপাতা বেটে লাগিয়ে দিলেই ভালো হয়ে যায়।

এলার্জিতে নিম পাতার ব্যবহার

অ্যালার্জির হাত থেকে দূরে থাকতে নিম পাতা অনেক উপকারী। বর্তমানে এলার্জি জনিত সমস্যায় আমরা অনেকেই ভুগে থাকি। অ্যালার্জির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। এলার্জি হলে সারা শরীর চুলকাতে চুলকাতে অস্থির হয়ে পড়ি। খুবই বিরক্তিকর একটি সমস্যা। তাই এ সমস্যার হাত থেকে দূরে থাকতে নিম পাতার ব্যবহার করতে পারেন।

নিম পাতায় থাকা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ত্বকের প্রদাহ কমায় এবং এলার্জিজনিত জ্বালা এবং চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও নিমপাতাতে থাকা এন্টিহিস্টামিন শরীরের হিস্টামিনের মাত্রা কমিয়ে দেয় যা এলার্জি ও অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যার উপসর্গগুলো কমাতে সাহায্য করে। নিমপাতা ত্বকে এন্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে।

আরো পড়ুন : আমলকি হরিতকি বহেরার উপকারিতা - ত্রিফলা খাওয়ার নিয়ম

এলার্জিতে নিমপাতা অনেক কয়েক ভাবে ব্যবহার করতে পারেন। কিছু নিমপাতা ভালোভাবে সিদ্ধ করে সেই পানি ঠান্ডা করে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে পারেন। আবার নিম পাতার পেস্ট করে সেই পেস্ট আক্রান্ত স্থানে লাগালে চুলকানি এবং লালচে ভাব কমে যায়। এছাড়াও আক্রান্ত স্থানে নিমের তেল ব্যবহার করতে পারেন এতে করে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

নিম পাতার টোনার নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চুলকানি এলার্জি জাতীয় সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়। তাহলে আশা করি এলার্জিতে নিমপাতার উপকারিতা ও ব্যবহারের পদ্ধতি সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

ব্রনের জন্য নিম পাতার ব্যবহার

ব্রনের জন্য নিম পাতা প্রাকৃতিক ও কার্যকরী একটি ঔষধ। আমাদের সৌন্দর্যের একটি বড় অংশ হচ্ছে ত্বক। আর সেই ত্বকের উপর যখন ব্রণ হয় তখন অনেক বেশি বিরক্ত লাগে। তাই ব্রণ দূর করতে নিম পাতা ব্যবহার করতে পারেন। অনেক আগে থেকেই ব্রণের বিরুদ্ধে নিম পাতা ব্যবহার করা হয়। নিমপাতা তে থাকা বিভিন্ন উপাদান ব্রণ দূর করতে সহায়ক।

ব্রণ দূর করতে নিমপাতা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ ব্রণ এর জন্য খুবই বেশি কার্যকরী। তাই কয়েকটি কাঁচা নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে বেটে ব্রণের ওপর লাগালে ব্রণ খুব তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যায়। আবার কিছু নিমপাতা দুই থেকে তিন কাপ পানিতে ভালোভাবে সিদ্ধ করে সেই পানি ঠান্ডা করে মুখ ধোয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

এতে করে ত্বকের ছিদ্র গুলো কমে যায় ও পরিষ্কার রাখে এবং ত্বক থেকে ব্যাকটেরিয়া দূর করে ত্বককে ব্রণের হাত থেকে দূরে রাখে। এছাড়াও নিমপাতার টোনার ব্যবহার করতে পারবেন। এর জন্য নিম পাতা ফুটানো পানি ঠান্ডা করে স্প্রে বোতলে সংরক্ষণ করবেন। ফেস ওয়াশ করার পর এই পানি মুখের উপর ছিটিয়ে দিবেন। এতে করে ব্রণ থেকে দূরে থাকা যায়।

চুলের জন্য নিমপাতার উপকারিতা ও ব্যবহার

চুলের জন্য নিমপাতার অনেক অনেক উপকারিতা হয়েছে। আমাদের সৌন্দর্যের মধ্যে চুল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিনিয়তই চুলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য আমরা অনেক কিছু করে থাকি। তাই এখন চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে প্রাকৃতিক ঔষধি গুন সম্পন্ন নিমপাতা একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন। করে আশা করা যায় অনেক বেশি লাভবান হবেন।

চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে অনেকেই নিমপাতা ব্যবহার করে। চলুন একবার দেখে নিই চুলে নিম পাতা ব্যবহার করলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যাবে। এরপরে আমরা চুলে নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কে জানব। চুলে নিমপাতা ব্যবহারের ফলে

  1. চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে
  2. চুল পড়া রোধ করে
  3. চুলের গোড়া শক্ত করে
  4. মাথার খুশকি দূর করে
  5. চুলের উকুন দূর করে
  6. মাথার ত্বকের সংক্রমণ রোধ করে
  7. চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে
  8. চুলের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায় ইত্যাদি

তাহলে বুঝতে পারলেন চুলে নিমপাতা ব্যবহারে কত উপকারিতা আছে। এই উপকারিতা গুলো পেতে নিয়মিত চুলে নিমপাতা ব্যবহার করতে পারেন। এবার চলুন দেখে নেই চুলে কিভাবে নিমপাতা ব্যবহার করবেন।

আরো পড়ুন : খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা

প্রথমে কিছু নিমপাতা নিয়ে তা দুই থেকে তিন কাপ পানিতে ভালোভাবে সিদ্ধ করে সেই সিদ্ধ করা পানি ঠান্ডা করে চুল শেষ বার ধোয়ার সময় ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে চুলের খুশকি দূর হবে এবং মাথার স্কাল সংক্রম উন্মুক্ত থাকবে। নিম পাতার পেস্ট করেও মাথা ব্যবহার করতে পারে। সতেজ কিছু নিমপাতা নিয়ে ভালোভাবে বেটে চুলের গোড়া থেকে আগ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন।

এতে চুলের উপরে বর্ণিত উপকার হয়। এছাড়াও নিম পাতার যে পেস্ট তৈরি করেছেন সেই পেস্ট এর সাথে একটু দই ও মধু মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। এতে করে চুল নরম ও আদ্র হয়। এছাড়াও উপরে বর্ণিত পদ্ধতি গুলো চুলে ব্যবহার করতে পারেন।

রূপচর্চায় নিম পাতার উপকারিতা ও ব্যবহার

প্রাকৃতিক উপায়ে যদি আমরা রূপচর্চা করতে চাই তাহলে প্রথমেই যেই জিনিসটি আসে তা হচ্ছে নিম পাতা। রূপচর্চায় নিম পাতার গুরুত্ব অনেক বেশি। আমরা প্রতিনিয়ত রূপচর্চা করার জন্য কত নামিদামি ক্রিম ফেসওয়াশ ই না ব্যবহার করি। কিন্তু হাতের কাছেই থাকা নিমপাতা দিয়ে রূপচর্চার ফলে আমরা প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর ত্বক ও চুল পেতে পারি।

রূপচর্চায় নিম পাতার উপকারিতা ও ব্যবহার আপনাদেরকে বলবো। চলুন এখন রূপচর্চায় নিমপাতা ব্যবহার করলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যায় তা দেখে নিই।

  1. ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমাতে সাহায্য করে
  2. ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করেন
  3. চুলে খুশকি দূর করে ও উকুন নাশক হিসেবে কাজ করে
  4. ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখে
  5. ত্বকের সংক্রামণ ও প্রদাহ কমায়
  6. বয়সের ছাপ দূর করে
  7. চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং চুলকে সবল করে ইত্যাদি।

তাহলে বুঝতে পারলেন রূপচর্চায় নিমপাতা ব্যবহার করলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যায়। রূপচর্চার জন্য নিমপাতা খুবই কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক ভেষজ। রূপচর্চা করার জন্য নিমপাতা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে এবার চলুন রূপচর্চা করার জন্য নিম পাতা ব্যবহার করার কিছু উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি জেনে নেয়া যাক।

নিম পাতার ফেসপ্যাক

নিম পাতার ফেসপ্যাক করে রূপচর্চায় ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য প্রথমেই ১০ থেকে ১৫ টি কাঁচা নিমপাতা সিদ্ধ করে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে এবং তার সাথে দুই চামচ গোলাপ জল মিশাতে হবে। তারপর পেস্ট তৈরি হলে পেস্টটি মুখের ওপর ব্যবহার করতে হবে এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে করে ত্বক পরিষ্কার হবে এবং ব্রণ কমে যাবে।

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের পেস্ট

প্রথমেই ১০ থেকে ১৫ টি সতেজ নিমপাতা ও একটু কাঁচা হলুদ একসাথে বেটে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। সেই পেস্ট মুখে ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। এরপর ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। কাঁচা হলুদ ও নিম পাতার পেস্ট মুখে ব্যবহারের ফলে ব্রণ শুকিয়ে যায় এবং ত্বকের ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।

নিম পাতা ও মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক

নিমপাতা ও মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক তৈরি করার জন্য সামান্য পরিমাণে মুলতানি মাটি, একটু গোলাপজল, পরিমাণ মতো পানি ও কিছু নিম পাতার গুড়া নিতে হবে। এরপর এই সবগুলো একসাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করতে হবে। পেস্টটি তৈরি করার পরে ভালোভাবে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়।

নিমের তেল দিয়ে চুলের যত্ন

নিমের তেল চুলের জন্য অনেক উপকারী। তাই নিমের তেল একটু গরম করে মাথার ত্বকে ভালোভাবে আস্তে আস্তে মালিশ করুন। মালিশ করার পর ৩০ মিনিট এভাবেই রেখে দিন। এরপর ভালোভাবে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এই কাজটি করার ফলে মাথা থেকে খুশকি দূর হয় এবং চুল মজবুত হয়। তাছাড়া আরো কিছু পদ্ধতি আছে তবে আপনি এগুলোই ট্রাই করে আগে দেখতে পারেন।

খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে দেখুন কি হয়

খালি পেটে নিমপাতা খাওয়ার অনেক উপকারিতা থাকলেও এ বিষয়ে একটু সতর্ক থাকা উচিত। নিম পাতার রসে পর্যাপ্ত পরিমাণে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি ইনফ্লেমেটরি থাকে যা আমাদের শরীরের জন্য বিভিন্নভাবে উপকারী হতে পারে। কিন্তু অনেক সময় খালি পেটে নিম পাতা খাওয়ার ফলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে দেখুন কি হয়

তাই এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে সকালে খালি পেটে নিম পাতা খেতে হবে। এখন আমরা খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার উপকারিতা গুলো দেখবো। তারপর এর কিছু সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখে নিব। চলুন তাহলে উপকারিতা গুলো আগে দেখে নিই।

  • খালি পেটে নিম পাতার রস শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এবং লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক বেশি উপকারী।
  • রক্তে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে এবং রক্তের চলাচল সহজ করে ফলে, ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা দূর করে।
  • নিম পাতার রস চর্ম রোগের জন্য অনেক উপকারী।
  • খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়ার ফলে ইমিউনিটি সিস্টেম শক্তিশালী হয় ইত্যাদি।

খালি পেটে নিম পাতা খাওয়ার ফলে উপরোক্ত উপকারিতা গুলো পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়টা সাবধানতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। কারণ খালি পেটে নিম পাতার রস মাঝে মাঝে অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ঘটিয়ে ফেলে। চলুন তাহলে এইবার খালি পেটে নিম পাতা খাওয়ার জন্য কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তা দেখে নিই।

  • প্রথমত অবশ্যই অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদের নিম পাতার রস থেকে দূরে থাকাই ভালো হবে।
  • ছোট বাচ্চাদের বিশেষ করে ১২ বছরের নিচে যাদের বয়স তারাও নিম পাতার রস থেকে দূরে থাকবে।
  • যাদের পেটে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকে তারা অবশ্যই নিমপাতা থেকে সতর্ক থাকবে।

খালি পেটে নিমপাতার রস খাওয়ার জন্য এই সতর্কতা গুলো অবলম্বন করতে হবে। প্রথমত বেশি খাওয়া যাবে না। আপনি যখন প্রথম খালি পেটে নিম পাতার রস খাওয়া শুরু করবেন তখন অবশ্যই খুবই সামান্য পরিমাণ থেকে শুরু করবেন। আপনার যখন এটি মানিয়ে যাবে তখন আস্তে আস্তে পরিমাণ বাড়াতে পারেন।

নিম পাতা খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

নিম পাতা খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। বিশেষ করে নিমপাতা খেলে পেটের কৃমি মারা যায়। এছাড়াও খালি পেটে নিম পাতার রস খাবার যে উপকারিতা গুলো এতক্ষণ বর্ণনা করলাম আপনি যদি নিম পাতা খান তাহলে ওই উপকারিতা গুলো পাবেন। নিমপাতা খাওয়ার বিভিন্ন নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিয়ম এখন আপনাদের সাথে আলোচনা করব।

  1. খালি পেটে নিম পাতা খাওয়া : খালি পেটে নিমপাতা খাওয়া বেশি উপকারী। কারণ খালি পেটে নিম পাতা খেলে এটি দ্রুত শরীরকে ডিটক্সিফাই করে। তবে খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালোভাবে পাতা ধুয়ে নিতে হবে।
  2. পেস্ট বা রস করে : কাঁচা নিমপাতা পেস্ট বা রস করেও খেতে পারেন। নিম পাতার পেস্ট এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে খুব সহজে খাওয়া যায়। প্রয়োজনে তার সাথে মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
  3. পরিমাণ মতো খাওয়া : নিম পাতা খাওয়ার সময় অবশ্যই পরিমাণের ওপর লক্ষ্য রাখতে হবে। অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  4. নিমপাতা মাঝে মাঝে খাওয়া : নিমপাতা প্রতিদিন না খেয়ে মাঝে মাঝে খেতে হবে। প্রতিদিন নিমপাতা খাবার ফলে শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সপ্তাহে ২ দিন অথবা ৩ দিন খেতে পারেন।
  5. নিম পাতা সেদ্ধ করে : নিম পাতা সিদ্ধ করে সে পানি পান করা যায়। এতে করে শরীরের টক্সিন দূর হয়। নিমপাতা সিদ্ধ করা পানি দিনে ১ থেকে ২ গ্লাস খেতে পারেন।
  6. অন্যান্য খাবারের সাথে মিশিয়ে : নিম পাতা যেহেতু অনেক তেতো তাই নিম্মা তার সাথে মধু অথবা গুড় অথবা অন্য কোন আপনার পছন্দ মত খাবারের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

নিম পাতার স্বাদ অনেক তেতো হওয়ায় অনেকেই সহজে খেতে পারেন না। উপরে কিছু পদ্ধতি বর্ণনা করলাম এ অনুযায়ী ট্রাই করে দেখতে পারেন। নিম পাতার রস মধুর সাথে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। এতে করে তেতোর পরিমাণ কমে। অনেকে একদম কচি নিমপাতা সরাসরি চিবিয়েও খায়। যদি পারেন তাহলে এই ভাবেও ট্রাই করে দেখতে পারেন।

শেষ কথা - চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার ও নিম পাতার ক্ষতিকর দিক

চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার ও নিমপাতার ক্ষতিকর দিকসহ নিমপাতা নিয়ে অনেক কিছু আপনাদের সাথে এতক্ষণ আলোচনা করলাম। আশা করি চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। নিমপাতা সত্যিই চর্ম রোগের জন্য অনেক উপকারী একটি ভেষজ ওষুধ। এর সঠিক ব্যবহারে চর্ম রোগের হাত থেকে অনেকটা দূরে থাকা যায়।

তবে নিম পাতার কিছু ক্ষতিকর দিক এবং সতর্কতার দিক নিয়েও আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি। নিম পাতা ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন। তাহলেই ভালো উপকারিতা গ্রহণ করতে পারবেন। আশা করি আজকের পোস্টটি পড়ে উপকৃত হয়েছেন। আমাদের সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আজকে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ😍

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url