হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম ও হাতিশুর গাছের উপকারিতা

হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম ও হাতিশুর গাছের উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই অবগত নই। এর উপকারিতা জানলে আপনি সত্যিই অবাক হয়ে যাবেন। খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী একটি ভেষজ উদ্ভিদ হচ্ছে হাতিশুর। আমাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে এই উদ্ভিদটি।

হাতিশুর-গাছের-শিকড়-খাওয়ার-নিয়ম-ও-হাতিশুর-গাছের-উপকারিতা

আমাদের যখন প্রয়োজন পড়ে আমরা কেবলমাত্র তখনই এর উপকারিতা অপকারিতা জানার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তাহলে চলুন দেরি না করে হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম সহ এই ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য জেনে নেয়া যাক।

সূচীপত্র - হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা

হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম

হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনি যেহেতু জানতে চেয়েছেন তাই এ সম্পর্কে আগে বলা যাক। আসলে প্রতিটি ওষুধ খাওয়ারই কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন থাকে। ঠিক তেমনিভাবে হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ারও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন রয়েছে। আর আমরা যদি এইসব নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন মেনে জিনিসটি ব্যবহার না করি তাহলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত উপকারিতা পেতে ব্যর্থ হবো।

আরো পড়ুন : পাথরকুচি পাতার ক্ষতিকর দিক - খালি পেটে পাথরকুচি পাতা খেলে কি হয়

তাই কাঙ্ক্ষিত সেই উপকারিতা গ্রহণ করার জন্য হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার সঠিক নিয়ম এখানে উল্লেখ করা হবে। তবে আপনি যদি হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার পূর্বে কোন আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের পরামর্শ নেন তাহলে সেটি আরো বেশি ভালো হবে। হাতিশুর গাছের শিকড় বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। নিচে কিছু জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি দেয়া হলো।

শিকড়ের চা বানিয়ে

হাতিশুর গাছের শিকড়ের চা বানিয়ে খাওয়া যায়। এর জন্য প্রথমে আপনাকে হাতিশুর গাছের শিকড় সংগ্রহ করতে হবে এবং তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তারপর দুই ইঞ্চি পরিমাণ শিকড় নিয়ে সেটি টুকরো টুকরো করে কেটে এক কাপ পানিতে ভালোভাবে ফুটাতে হবে। পানির পরিমাণ কিছুটা কমে গেলে সেটি ভালোভাবে ছেঁকে নিয়ে খালি পেটে পান করতে হবে। এটি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার করা যেতে পারে।

শিকড়ের গুঁড়ো করে

হাতিশুর গাছের শিকড় যদি গুঁড়ো করে খেতে চান তাহলে প্রথমে শিকড় সংগ্রহ করে ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর সেগুলো ভালো করে গুঁড়ো করার পর প্রতিদিন সকালে আধা চামচ গুঁড়ো এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে ভালোভাবে মিশিয়েও খেতে পারেন।

আরো পড়ুন : যষ্টিমধু খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা ও যষ্টিমধু খাওয়ার নিয়ম

তাছাড়া হাতিশুর গাছের শিকড় পেস্ট করেও ব্যবহার করা যায়। যদি চর্মরোগ দেখা দেয় তাহলে হাতিশুর গাছের শিকড় পেস্ট করে সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে। এছাড়াও অনেকে যৌন রোগের কারণে হাতিশুর গাছের শিকড় খেয়ে থাকেন। তাদের জন্য বলব যে, আপনারা সকালবেলা অবশ্যই এটি খাওয়ার পূর্বে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। এরপর দুই ইঞ্চি পরিমাণ হাতিশুর গাছের শিকড় নিবেন।

তারপর সেটি এক চামচ মধুর সাথে ভালোভাবে চিবিয়ে শিকড়ের রস খেয়ে ছোবড়াটা ফেলে দিবেন। এটি খাওয়ার পরবর্তী এক ঘণ্টার মধ্যে আর কোন কিছু খাবেন না। খাওয়ার আগে অবশ্যই শুধুমাত্র এক গ্লাস পানি খাবেন। এ ছিল হাতিশুর গাছের শিকড় খাবার কিছু নিয়ম। আশা করি এই নিয়ম অনুযায়ী হাতিশুর গাছের শিকড় খেয়ে কাঙ্খিত উপকার গ্রহণ করতে পারবেন।

হাতিশুর গাছের উপকারিতা

হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম এতক্ষণে আশা করি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন। এখন আপনাদের সাথে হাতিশুর গাছের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। হাতিশুর গাছে রয়েছে অগণিত উপকারিতা। রাস্তার ধারে যেখানে সেখানে অযত্নে বেড়ে ওঠা এই ঔষধি গাছটি কতটা উপকারী তা আপনি না জানলে বিশ্বাস করবেন না। হাতিশুর গাছের শিকড় থেকে পাতা পর্যন্ত সবকিছু ব্যবহার করা হয়।

হাতিশুর-গাছের-শিকড়-খাওয়ার-নিয়ম-ও-হাতিশুর-গাছের-উপকারিতা

বিভিন্ন ধরনের ছোটখাটো রোগের জন্য হাতিশুর বেশ কার্যকরী প্রাকৃতিক ভেষজ ওষুধ। তাহলে চলুন আর দেরি না করে এক নজরের হাতিশুর গাছের উপকারিতা গুলো দেখে নিন।

  1. দাঁতের মাড়ি ফোলা রোগে যদি আক্রান্ত হয় তাহলে হাতিশুর গাছের শিকড় চিবালে দাঁতের মাড়ি ফোলা কমে যায়।
  2. সর্দি হলে হাতিশুর গাছের পাতার রস করে খেলে সর্দি ভালো হয়।
  3. যদি কোন বিষাক্ত পোকামাকড় কামড়ায় বা কোন জায়গা ফুলে যায় তাহলে পাতা বেটে পেস্ট করে সেটি আক্রান্ত স্থানে লাগালে ভালো হয়।
  4. মুখে ব্রণ হলে সেই ব্রণের উপর হাতিশুর গাছের পাতা ও কচি ডালপালা পেস্ট করে প্রলেপ দিয়ে এক ঘন্টা রাখার পর ধুয়ে ফেললে ব্রণ ভালো হয় এবং নতুন করে আর ব্রণ হয় না।
  5. জ্বর ও কাশি হলে হাতিশুর গাছের শিকড় পানিতে ফুটিয়ে তা পান করলে উপকার পাওয়া যায়।
  6. দেহে ছত্রাক জনিত কোন সমস্যা বা লাল চাকা চাকা দাগ দূর করতে হাতিশুর গাছের পাতা বেশ উপকারী।
  7. কোন কারণে চোখ যদি লাল হয়ে যায় বা চোখের ভিতরে খচখচ করে কোন কিছু ফুটে তাহলে হাতিশুর গাছের পাতার রস ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।
  8. একজিমা থেকে দূরে থাকতে হাতিশুর গাছের পাতা পেস্ট করে একজিমার ওপর প্রলেপ দিলে একজিমা থেকে দূরে থাকা যায়।
  9. টাইফয়েড এর জন্য হাতিশুর গাছের পাতার রস বেশ উপকারী। এজন্য আপনি পাতার রস করে হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করতে পারেন।
  10. কোন জায়গার আঘাতের ব্যথা প্রশমনে হাতিশুর গাছ বেশি উপকারী।
  11. বিভিন্ন ধরনের যৌন সমস্যা সমাধানে হাতিশুর গাছ প্রাকৃতিক ও কার্যকরী একটি ভেষজ।
  12. পেটের পিড়ার জন্য হাতিশুর গাছ বেশি উপকারী।
  13. এটি একটি প্রাক অ্যান্টিসেপটিক।
  14. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
  15. রক্ত পরিষ্কার রাখে।
  16. বিভিন্ন ধরনের ব্যথা উপশমে বেশ কার্যকারী ইত্যাদি।

এছাড়াও হাতিশুর গাছের আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। নিচে হাতিশুর গাছের শিকড় ও পাতা নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। হাতিশুর গাছ একটি প্রাকৃতিক মহা ঔষধ। নিয়মিত ও সঠিক ব্যবহারে হাতিশুর গাছ শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আশা করি হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম ও হাতিশু গাছের বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

হাতিশুর গাছের শিকড়ের উপকারিতা

হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম ও হাতিশুর গাছের বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা জানার পর এবার আপনাদের সাথে হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। কেননা হাতিশুর গাছের শিকড় থেকে পাতা পর্যন্ত সবকিছুই ঔষধি গুণে ভরপুর। এর আলাদা আলাদা অংশ ব্যবহারের ফলে আলাদা আলাদা উপকারিতা পাওয়া যায়। তাহলে চলুন জেনে নিই হাতিশুর গাছের শিকড়ের উপকারিতা।

আরো পড়ুন : চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার - নিম পাতার ক্ষতিকর দিক 

  • হাতিশুর গাছের শিকড় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়ক।
  • রক্ত পরিষ্কার রাখে।
  • প্রদাহ ও ব্যাথা উপশম করে।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। 
  • জ্বর নিরাময়ে সহায়ক।
  • চর্মরোগ নিরাময় করে।
  • মূত্রনালীর সমস্যা দূর কারে।
  • কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে ইত্যাদি।

হাতিশুর গাছের শিকড় ব্যাবহারের ফলে এই উপকারিতা গুলো আপনি পেতে পারেন। তবে তা সঠিক নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

হাতিশুর গাছের পাতার উপকারিতা

হাতিশুর গাছের শিকড়ের উপকারিতা নিয়ে এতক্ষন আপনাদের সাথে আলোচনা করলাম। আশা করি এ বিষয়ে বুঝতে পেরেছেন। যেহেতু হাতিশুড় গাছের সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে তাই এখন হাতিশুর গাছের পাতার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবো। হাতিশুর গাছের প্রতিটি জিনিসই প্রাকৃতিক ভেষজ ও বেশ কার্যকরী। চলুন তাহলে আর দেরি না করে পাতার উপকারিতা জেনে নেয়া যাক।

আরো পড়ুন : থানকুনি পাতার ১৮টি উপকারিতা ও অপকারিতা

  • পেটের পীড়া দূর করে
  • চর্মরোগের চিকিৎসায় কার্যকরী
  • শ্বষকষ্ট ও হাপানি উপসর্গে সহায়ক
  • ডাায়াবটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে
  • ইমিউনিটি সিস্টেম শক্তিশালি করে
  • মাথাব্যাথা দূর করতে সাহায্য করে
  • ক্ষত সারাতে সহায়ক
  • রক্ত পরিশোধন করে
  • ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে ইত্যাদি।

এই ছিল হাতিশুর গাছের পাতার উপকারিতা। আপনি যদি সঠিক নিয়ম অনুযায়ী হাতিশুর গাছের পাতা ব্যবহার করেন তাহলে উপরোক্ত উপকারিতা গুলো গ্রহণ করতে পারবেন। আশা করি এ বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন।

হাতিশুর গাছের ভেষজ উপকারিতা

হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম ও হাতিশুর গাছের উপকারিতা জানার পাশাপাশি আপনারা এতক্ষণে হাতিশুর সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে ফেলেছেন। আপনারা সবাই জানেন যে হাতিশুর খুবই কার্যকরী একটি ভেষজ উদ্ভিদ। আমরা এখন হাতিশুর গাছের ভেষজ উপকারিতা গুলো এক নজরে দেখে নিব।

আরো পড়ুন : পুরুষের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম উপকারিতা ও অপকারিতা

  1. হাতিশুর গাছের পাতা ও শিকড় বেটে চর্মরোগ, চুলকানি, খোসপাচড়াতে লাগালে ভালো হয়ে যায়।
  2. হাতিশুর গাছের শিকড় ও পাতার রস প্রসাবের সংক্রমণ ও জ্বালাপোড়া কমানোর জন্য বেশ কার্যকরী।
  3. হাতিশুর গাছের পাতা এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যার কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  4. হাতিশুর গাছের পাতার নির্যাস রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে যা ডায়াবেটিস নিরাময়ের জন্য জন্য বেশ কার্যকরী। 
  5. হাতিশুর গাছের পাতা ও শিকড়ের রস হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  6. হাতিশুর গাছের শিকড়ের রস কৃমিনাশক হিসেবে বেশ কার্যকরী।

হাতিশুর গাছের ভেষজ উপকারিতা দেখতে গেলে উপরোক্ত এই উপকারিতা গুলো পাওয়া যায়। তাহলে আপনি যদি নিয়মিত সঠিক নিয়ম অনুযায়ী হাতিশুর গাছের শিকড় ও পাতা ব্যবহার করেন তাহলে উপরোক্ত এই ভেষজ উপকারিতা গুলো পাবেন।

হাতিশুর গাছের শিকড় কখন খাবেন

আমরা তো এতক্ষণে হাতিশুর গাছ সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। কিন্তু এটা আমাদের জানা জরুরী যে হাতিশুর গাছের শিকড় বা পাতা কোন সময়ে খাওয়া বেশি ভালো হবে। কখন এটি খেলে আমরা আমাদের কাঙ্খিত উপকারিতা পাবো। আসলে হাতিশুর গাছের শিকড়ের গুড়া বা পাতা খাওয়ার সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে সকাল বেলা খালি পেটে, তবে তার আগে এক গ্লাস পানি খেয়ে নেওয়া ভালো।

আরো পড়ুন : শিমুল মূলের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

সকাল বেলা খালি পেটে হাতিশুর গাছের শিকড় বা পাতা খাওয়ার ফলে এটি আমাদের শরীরকে ডিটক্সিফিকেশন করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও যখন আপনি কোন সমস্যায় পড়বেন তখন সেই সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতেও আপনি ওই সময়টাতে হাতিশুর গাছ ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া ঘুমাতে যাওয়ার আগেও হাতিশুর গাছ ব্যবহার করা যায়।

আপনি যদি ক্রিমিনাশক হিসেবে হাতি সুর গাছ ব্যবহার করতে চান তাহলে, সকাল বেলা খালি পেটে হাতিশুর গাছের শিকড়ের গুঁড়া পানির সাথে মিশিয়ে পান করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এখন আসল কথা হচ্ছে হাতিশুর গাছ ব্যবহার করা সবচেয়ে উত্তম সময় হচ্ছে সকালবেলা। আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

যৌন সমস্যায় হাতিশুর গাছের শিকড়ের উপকারিতা

বর্তমানে আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন ধরণের যৌন সমস্যায় ভুগে থাকে। তাই এই সমস্যা সমাধানের জন্য এর পিছনে অনেক টাকা পয়সাও খরচ করে ফেলে। কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন যে হাতিশুর যৌন সমস্যা সমাধানে খুবই কার্যকরী একটি ভেষজ ঔষধ। বিভিন্ন ধরনের যৌন সমস্যার সমাধানে অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক এই গাছটির সাহায্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

হাতিশুর-গাছের-শিকড়-খাওয়ার-নিয়ম-ও-হাতিশুর-গাছের-উপকারিতা

বিশেষ করে হাতিশুর গাছের শিকড় এই সমস্যার সমাধান হিসেবে কাজ করে থাকে। হাতিশুর গাছের শিকড়ে এমন কিছু ভেষজ উপাদান রয়েছে যা শরীরের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও জনসাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। হাতিশুর গাছের শিকড় ব্যবহারের ফলে নিম্নে বর্ণিত উপকারিতা গুলো পাওয়া যায়।

  • হাতিশুরের শিকড় শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে, ক্লান্তি দূর করে এবং যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে।
  • হাতিশুড় শিকড়ের ভেষজ উপাদান নারী ও পুরুষের যৌন হরমনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে যার ফলে যৌনশক্তির উন্নতি ঘটে।
  • হাতিশুর শিকড় যৌনসহনশীলতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক এবং এটি শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করার ফলে যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • হাতিশুর মেয়েদেরও যৌন স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করে।
  • অনেক সময় যৌন সমস্যা ই মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। হাতি সুরের শিকড় মানসিক চাপ কমিয়ে মনোযোগ উন্নত করতে সাহায্য করে ইত্যাদি।

যৌন সমস্যা দূর করতে আপনি যদি হাতিশুর কাছে শিকড় ব্যবহার করেন তাহলে উপরোক্ত এই উপকারিতা গুলো পেতে পারেন। যৌন সমস্যা সমাধানে হাতিশুর খুবই কার্যকারী এবং প্রাকৃতিক একটি ভেষজ। বেশিরভাগই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক যৌন সমস্যার রোগীদের এই ভেষজ ব্যবহার করেই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

যৌন সমস্যা সমাধানে হাতিশুর শিকড় খাওয়ার নিয়ম

যৌন সমস্যা সমাধানে হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা এতক্ষণে দেখলাম। এখন আসল কথা হচ্ছে যে আপনি এই শিকড় খাবেন কিভাবে তাই তো ? এই সমস্যা সমাধানে হাতিশু গাছের শিকড় খাওয়ার তেমন বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। এর জন্য প্রথমে আপনাকে হাতিশুর গাছের শিকড় সংগ্রহ করতে হবে এবং ভালোভাবে তা ধুয়ে নিতে হবে।

আরো পড়ুন : তোকমা দানার উপকারিতা - ইসুবগুলের ভুষি ও তোকমা খাওয়ার নিয়ম

আপনাকে আগেই বলেছি হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার সবচাইতে উত্তম সময় হচ্ছে সকাল বেলা খালি পেটে। যৌন সমস্যা সমাধানেও আপনাকে এভাবেই খেতে হবে। এরপর আপনাকে শিকড় গুলো দেড় থেকে দুই ইঞ্চির মতো করে কেটে নিতে হবে। এটি খাওয়ার আগে আপনি অবশ্যই এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। পানি খাওয়ার পর দুই ইঞ্চি শিকড় ও এক চামচ মধু একসাথে চিবিয়ে খাবেন।

তবে যদি মধু না থাকে তাহলে আপনি শিকড় চিবিয়ে রসটা খেয়ে ছোবড়া ফেলে দিতে পারেন। খাওয়া হয়ে গেলে এরপর এক ঘণ্টার মধ্যে আর কিছু খাবেন না। আপনি অবশ্যই খেয়াল করে এটি খাওয়ার পূর্বে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিবেন। আর সময়টি অবশ্যই সকালবেলা খালি পেটে হতে হবে। এতে করে আশা করা যায় আপনি আপনার কাঙ্খিত উপকারিতা পাবেন।

হাতিশুর গাছের অপকারিতা

হাতিশুর গাছের এতক্ষণে অনেক উপকারিতা দেখলেন। কিন্তু এটির সম্ভাব্য কিছু অপকারী দিক ও রয়েছে। যে দিকগুলো আমাদের মাথায় রাখা উচিত। প্রতিটি জিনিসেরই যেমন উপকারিতার পাশাপাশি কিছু অপকারিতা থাকে হাতিশুর গাছেরও ঠিক তেমন। তবে আপনি অপকারিতা সম্মুখীন তখনই হবেন যখন এটি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করবেন না। আপনাকে এটি ব্যবহারে অবশ্যই সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।

যা ইতোমধ্যে উপরে বর্ণনা করা হয়েছে। তাহলে চলুন হাতিশুর গাছের সম্ভাব্য কিছু অপকারিতা এক নজরে দেখে নেয়া যাক।

  • পেটে হজম জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে
  • বমি অথবা বমি বমি ভাব হতে পারে
  • এলার্জি বা ত্বকের সমস্যা হতে পারে
  • মহিলাদের জন্য গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকতে পারে
  • লিভার ও কিডনির ওপর চাপ পড়তে পারে
  • শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ
  • রক্তচাপের উপর প্রভাব ফেলতে পারে ইত্যাদি।

এগুলো ছিল হাতিশুর গাছ ব্যবহারের ফলে সম্ভাব্য কিছু অপকারিতা। তবে আপনি অস্বাভাবিক ও নিয়ম না মেনে ব্যবহারের ফলে কেবলমাত্র এই সমস্যাগুলো সম্মুখীন হতে পারেন। এই সমস্যাগুলো সম্মুখীন যাতে না হন সেই জন্য কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তা নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে। আশা করছি এ বিষয় সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন।

হাতিশুর গাছের শিকড় ব্যবহারে সতর্কতা

হাতিশুর গাছের শিকড় ব্যবহারের ফলে যেসব সমস্যায় পড়তে পারেন সেই সমস্যা গুলোর হাত থেকে বাঁচতে আমাদের কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এতে করে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত উপকারিতা গ্রহণ করতে পারবো। নিম্নে বর্ণিত এই সর্তকতা গুলো যদি আপনারা অবলম্বন করেন তাহলে আশা করা যায় এ সমস্যাগুলো সম্মুখীন হবেন না।

  1. সর্বপ্রথম যে সতর্কতা সেটি হচ্ছে অতিরিক্ত সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে।
  2. শিকড় ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
  3. গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য কোনভাবেই এটি ব্যবহার করা যাবে না। 
  4. এটি যদি আপনার এলার্জির কারণ হয় তাহলে তা থেকে বিরত থাকুন।
  5. হাতিশুর বাচ্চাদের ব্যবহার না করাই ভালো হবে।
  6. অন্য কোন ওষুধ সেবন করলে তার সাথে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া করতে পারে।
  7. তার থেকে অবশ্যই এটি ব্যবহারের পূর্বে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  8. হাতিশুর গাছের শিকড় সংরক্ষণের সময় অবশ্যই পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করবেন।

এ ছিল সমস্যার হাত থেকে দূরে থাকার জন্য কিছু সতর্কতা। আশা করি সতর্কতা গুলো অবলম্বন করে একটি ব্যবহার করে আপনি আপনার কাঙ্খিত উপকারিতা গ্রহণ করবেন।

হাতিশুর গাছ কোথায় পাওয়া যায়

হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম ও হাতিশুর গাছের উপকারিতা জানার পাশাপাশি আপনারা এতক্ষণে অনেক কিছু জেনে ফেলেছেন। এখন অনেকে জানেন না যে এই গাছটি কোথায় পাওয়া যাবে বা কোথা থেকে সংগ্রহ করা যায়। বিশেষ করে এই গাছটি রাস্তার পাশে অনেক দেখা যায়। যেখানে সেখানে এই গাছটি কোনরকম যত্ন ছাড়াই বেড়ে ওঠে।

রাস্তার ধার বা কোন ঝোপ ঝাড়ের আশেপাশে অথবা বিভিন্ন ফসলের জমির আশেপাশে এই গাছ দেখা যায়। বাড়ির আশেপাশে যেখানে সেখানেও হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি আপনার আশেপাশে না পান তাহলে কোন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করেও এটি পেতে পারেন।

হাতিশুর গাছ চেনার উপায়

হাতিশুর গাছ খুব সহজেই চেনা যায়। যেখানে সেখানে অযত্নে বেড়ে ওঠা এই গাছটি বেশি বড় হয় না। গাছটি গাঢ় সবুজ রঙের এবং গোলাপ গাছের পাতার মতো বড় বড় খসখসে পাতা পাতা। গাছের কাণ্ডে ও পাতাতে অনেক লোম লোম হয়ে থাকে। যার কারণে গাছ পাতা খসখসে হয়। এটি চীনা সবচাইতে সহজ উপায় হচ্ছে এর ফুল দেখে।

বিশেষ করে হাতিশুর গাছের যেই ফুল হয় সেটি লম্বা হয়ে মাথার দিকে পেঁচিয়ে বাঁকা হয়ে যায়। যা দেখতে হাতির শুর এর মতো। আর এই কারণেই এই গাছটির নাম হয় হাতিশুর গাছ। ফুলের মত অংশে ছোট ছোট সাদা অথবা হালকা নীল ফুল ফোটে। তবে একদম ছোট গাছে এরকমটা সুরের মতো দেখা যায় না। গাছের একটু বয়স হলেই গাছে ফুল ফোটে। আপনাদের চেনার সুবিধার্থে এখানে কিছু ছবি যোগ করা হয়েছে।

হাতিশুর গাছের ব্যবহৃত অংশ

হাতিশুর খুবই উপকারী কার্যকরী ও প্রাকৃতিক একটি ভেষজ উদ্ভিদ। আপনারা অনেকেই জানতে চান যে হাতিশুর গাছে কি কি ব্যবহার করা যায়। আসলে হাতিশুর গাছের শিকড় থেকে পাতা পর্যন্ত সবগুলোতেই ভেষজ উপাদান রয়েছে। হাতিশুর গাছের শিকড়, গাছ, পাতা, ফুল সব কিছুই ব্যবহার করা হয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা হাতিশুর গাছের যথাযথ ব্যবহার করে থাকেন।

এটা ছাড়া আপনাদের সাথে উপরে হাতিশুর গাছের শিকড় পাতা সহ সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন।

হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম - শেষ কথা

হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম ও হাতিশুর গাছের উপকারিতা জানার পাশাপাশি আপনারা এতক্ষণে হাতিশুর সম্পর্কে বিস্তারিত সবকিছু জেনেছেন। আশা করি পোস্টটি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়মের মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটি সেটি হচ্ছে সকালবেলা খালি পেটে হাতিশুর সেবন করা।

তবে যে সতর্কতা গুলো দেয়া হয়েছে সেগুলো অবশ্যই মনে রাখবেন। তাছাড়া উপকারিতা না পেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। হাতিশুর শিকড় ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। আজকে এ পর্যন্তই। আল্লাহ হাফেজ😍

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url