পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক ও জুসের উপকারিতা

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক ও পুদিনা পাতার জুসের উপকারিতা জানতে চান তাই তো ? চিন্তার কোন কারণ নেই। আজকে শুধু পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক ও জুসের উপকারিতা নিয়ে নয়। পুদিনা পাতার উপকারিতা অপকারিতা সহ এই পাতা সম্পর্কে বিস্তারিত সবকিছু আলোচনা করা হবে।

পুদিনা-পাতার-ক্ষতিকর-দিক-ও-জুসের-উপকারিতা

পুদিনা পাতা খুবই পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী একটি পাতা। তবে মাঝে মাঝে এর কিছু ক্ষতিকর দিক লক্ষ্য করা যায়। তাই আপনাদের সাথে এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে আলোচনা করব। সবকিছু বিস্তারিত জানার জন্য পোস্টটি শুধুমাত্র একবার করে ফেলুন।

পোস্ট সূচিপত্র - পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে যেহেতু আপনারা জানতে আগ্রহী সেহেতু, এ সম্পর্কে আপনাদের সাথে আগে আলোচনা করব। আমরা কমবেশি সবাই জানি যে, পুদিনা পাতা খুবই উপকারী, স্বাস্থ্যকর ও বিভিন্ন ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি পাতা। যা আমরা দৈনন্দিন বিভিন্ন রেসিপিতে ব্যবহার করে থাকি। তবে অতিরিক্ত বা অনুপযুক্ত ব্যবহারের ফলে মাঝে মাঝে পুদিনা পাতার কিছু ক্ষতিকর দিক লক্ষ্য করা যায়।

আরো পড়ুন : পালং শাকে কি এলার্জি আছে, পালং শাকের উপকারিতা অপকারিতা

আমাদের আশেপাশে উপকারী যত যাই থাকুক না কেন তার উপকারের পাশাপাশি কিছু ক্ষতিকর দিক লক্ষ্য করা যায়। আর এই ক্ষতির দিক তখনই প্রকাশ পায় যখন আমরা তা অতিরিক্ত বা অনুপযুক্ত ব্যবহার করি। ঠিক একইভাবে পুদিনা পাতার ক্ষেত্রেও তা ঘটে। তবে এ পাতা কোন বড় ধরনের ক্ষতির কারন হয় না। অনুপযুক্ত ব্যবহারের ফলে ছোটখাটো কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

চলুন তাহলে নিচে পুদিনা পাতার পুদিনা পাতার সম্ভাব্য কিছু ক্ষতিকর দিক দেখে নিন।

  • পুদিনা পাতা গ্যাস্টিক এসিড উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম। যার কারণে অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • পুদিনা পাতা ব্লাড প্রেসার কমাতে সাহায্য করে। তাই যারা আগে থেকেই নিম্ন রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য পুদিনা পাতা ক্ষতিকর হতে পারে।
  • পুদিনা পাতা বিভিন্ন ঔষধি গুনসম্পন্ন একটি পাতা। তাই বিভিন্ন ধরনের ওষুধের সাথে পুদিনা পাতার রাসায়নিক উপাদান একত্রিত হয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
  • বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য পুদিনা পাতা বিপদজনক হতে পারে। তাই ছোট বাচ্চাদের জন্য পুদিনা পাতা ব্যবহার না করাই ভালো হবে।
  • গর্ভকালীন সময়েও পুদিনা পাতার ব্যবহার থেকে দূরে থাকাটাই নিরাপদ।
  • অনেক সময় অনেকে সরাসরি পুদিনার তেল সেবন করেন। এই কাজটি করা ঠিক নয় কারণ এটি লিভারের ওপর প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা থাকে।
  • অনেক সময় অনেকের এলার্জিজনিত সমস্যা হতে পারে। তবে এই সমস্যাটি সবার জন্য নয়। কেবলমাত্র যাদের পুদিনা পাতাতে এলার্জি রয়েছে তাদের জন্য ইত্যাদি।

পুদিনা পাতার এই ছিল কিছু উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর দিক। আপনি এই ক্ষতিকর দিকগুলোর সম্মুখীন তখনই হবেন যখন আপনি এর অতিরিক্ত বা অনুপযুক্ত ব্যবহার করবেন। তবে এর ব্যবহার করার পূর্বে আপনি যদি যে কোন ডাক্তার বা আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন তাহলে বিষয়টি আরো ভালো হবে। তাই এই ক্ষতিকর দিকগুলোর হাত থেকে দূরে থাকতে পরিমান ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করবেন।

পুদিনা পাতার জুসের উপকারিতা

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আশা করি এতক্ষণে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন। এবার আপনাদের সাথে পুদিনা পাতার জুসের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। পুদিনা পাতা আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রেসিপিতে ব্যবহার করে থাকি। তার মধ্যে পুদিনা পাতার জুস অন্যতম। আমরা অনেকেই পুদিনা পাতার জুস পছন্দ করি। এটি বেশ স্বাস্থ্যকর এবং উপকারী।

পুদিনা-পাতার-ক্ষতিকর-দিক-ও-জুসের-উপকারিতা

পুদিনা পাতার জুসে স্বাস্থ্যকর বিভিন্ন ধরনের উপাদান থাকে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। নিচে পুদিনা পাতার উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

  1. পুদিনা পাতার জুস হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং পেট ফাঁপা ও বদ হজম সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
  2. পুদিনা পাতা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  3. পুদিনা পাতার জুস ত্বকের ‍ র‌্যাশ, ব্রণ ইত্যাদির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে বেশ কার্যকরী।
  4. পুদিনা পাতার জুস বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি করে এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে যার ফলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমে।
  5. শরীরকে শীতল রাখতে সাহায্য করে এবং গরমের সময় শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া থেকে দূরে রাখে।
  6. পুদিনা পাতার জুস ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।
  7. পুদিনা পাতায় ভিটামিন সি সহ আরো বিভিন্ন ভিটামিন থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  8. শরীরের রক্ত বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  9. কাশি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা দূর করতে পুদিনা পাতার জুস বেশ কার্যকরী।
  10. পুদিনা পাতার জুস মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও মাথা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে ইত্যাদি।

এছাড়াও পুদিনা পাতার জুসের আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে। আপনি যদি নিয়মিত সঠিক নিয়ম মেনে পুদিনা পাতার জুস খান তাহলে  উপরোক্ত উপকারিতা গুলো গ্রহণ করতে পারবেন।

পুদিনা পাতার পুষ্টি উপাদান ও গুনাগুন

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক ও জুসের উপকারিতা তো জানা হলো। শুধু এই বিষয়ই নয়। পুদিনা পাতা সম্পর্কে যাবতীয় সকল কিছু জানবো আমরা এই পোস্টে। এখন আপনাদের সাথে পুদিনা পাতার আরো বিভিন্ন উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। কিন্তু তার পূর্বে যদি আপনারা পুদিনা পাতাতে থাকা বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে একটু ধারণা রাখেন তাহলে বিষয়গুলো বুঝতে আরো সুবিধা হবে।

আরো পড়ুন : হাঁসের ডিমে কি এলার্জি আছে - হাঁসের ডিমের ক্ষতিকর দিক

তাই অন্যান্য উপকারিতা গুলো জানার আগে আপনাদের সাথে এখন পুদিনা পাতাতে কি কি উপাদান থাকে তা নিয়ে আলোচনা করব। পুদিনা পাতাতে থাকা বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান নিচে উল্লেখ করা হলো।

ভিটামিন

  • ভিটামিন এ
  • ভিটামিন সি
  • ভিটামিন বি ৯

খনিজ পদার্থ

  • ক্যালসিয়াম
  • ম্যাগনেসিয়াম
  • পটাশিয়াম
  • আয়রন এছাড়াও
  • ফাইবার
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
  • ক্যালোরি ও চর্বি
  • প্রাকৃতিক তেল ইত্যাদি

পুদিনা পাতায় এই সকল পুষ্টি উপাদান থাকে। আর এই উপাদান গুলোও আমাদের শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পুদিনা পাতা যে কোন খাবারের সাথেই ব্যবহার করে থাকি। তাই আপনি যদি নিয়মিত পুদিনা পাতা ব্যবহার করেন তাহলে উপরোক্ত এই পুষ্টি উপাদান গুলো পেতে পারেন।

পুদিনা পাতার চা এর উপকারিতা

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক সহ এর পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে আপনারা কিছুটা হলেও আশা করি ধারনা পেয়েছেন। এখন আমরা এক এক করে এর সমস্ত উপকারিতা সম্পর্কে জানব। আমাদের অনেকের কাছেই পুদিনা পাতার খুবই জনপ্রিয় একটি রেসিপি হচ্ছে পুদিনা পাতার চা। আমরা অনেকেই পুদিনা পাতার চা প্রতিনিয়ত খেয়ে থাকি। আপনারা অনেকেই হয়তোবা জানেন না পুদিনা পাতার চা বেশি উপকারী।

আরো পড়ুন : কলমি শাক খেলে প্রেসার বাড়ে না কমে

তাই এখন আপনাদের সাথে পুদিনা পাতার চা এর উপকারিতা নিয়েই আলোচনা করব। নিয়মিত পুদিনা পাতার চা খেলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যায় তার কিছু উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট নিচে তুলে ধরা হলো।

  • মানসিক প্রশান্তি আনে
  • শ্বাসতন্ত্রে আরাম প্রদান করে
  • পরিপাকতন্ত্রের উন্নতি সাধন করে
  • ব্যথা উপশম করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • ত্বকের যত্নে উপকারী
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • মুখের স্বাস্থ্য উন্নত করে
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
  • অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি গুণাবলী বিশিষ্ট
  • রাতে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে ইত্যাদি।

তাহলে বুঝতে পারছেন পুদিনা পাতার চা খাবার ফলে কি কি উপকারিতা পাওয়া যাবে। তাই এই উপকারিতা গুলো পেতে নিয়মিত পুদিনা পাতার চা খেতে পারেন। এখন কথা হচ্ছে পুদিনা পাতার চা কিভাবে বানাবেন তাই তো ? এর জন্য প্রথমে আপনাকে আট থেকে দশটি পুদিনা পাতা নিতে হবে এবং সেগুলো পানি দিয়ে খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

আরো পড়ুন : পাথরকুচি পাতার ক্ষতিকর দিক

এরপর দুই কাপ পানিতে পাতাগুলো দিয়ে ভালোভাবে সিদ্ধ করে নিতে হবে। পাতাগুলো সেদ্ধ হওয়ার পরে পানি কিছুটা গাঢ় হলে সেগুলো ছাকনি দিয়ে ভালোভাবে ছেকে নিতে হবে। মিষ্টি করে খাওয়ার জন্য চাইলে আপনি এর সাথে দুই চামচ মধু যোগ করতে পারেন। স্বাদ আরো বৃদ্ধি করতে লেবুর রস যোগ করতে পারেন। এই চা  আপনি গরম অথবা ঠান্ডা করেও খেতে পারেন।

রূপচর্চায় পুদিনা পাতার ব্যবহার

পুদিনা পাতা শুধুমাত্র খাওয়াতে যে উপকারিতা তা কিন্তু নয়। পুদিনা পাতা খাওয়া ছাড়াও আরো অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমন রূপচর্চার জন্য আকৃতি ও কার্যকরী উপাদান হিসেবে পুদিনা পাতায় বেশ জনপ্রিয়। পুদিনা পাতা তে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও ত্বককে শীতল ও সজীব রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান। রূপচর্চায় পুদিনা পাতা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়।

পুদিনা-পাতার-ক্ষতিকর-দিক-ও-জুসের-উপকারিতা

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু এখন আলোচনা করব। আমরা প্রতিনিয়ত ব্রণ এর সমস্যার ভুগে থাকি। আপনি জানলে অবাক হবেন যে পুদিনা পাতার ব্যবহারে ব্রণ থেকে দূরে থাকা যায়। এর জন্য তাজা ১০ থেকে ১৫ টি পুদিনা পাতা ভালোভাবে বেটে নিয়ে তা ব্রণের ওপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখলে ব্রণ ভালো হয়। নিয়মিত এটি ব্যবহার করায় ত্বকও পরিষ্কার থাকে।

তাহলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতেও পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও পুদিনা পাতা বেটে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয়। পুদিনা পাতার পেস্ট তৈরি করে চোখের চারপাশে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে চোখের ফোলা দূর হয়। ত্বকে পুদিনা পাতার পেস্ট ব্যবহার করলে ত্বকের রোদে পোড়া দাগও দূর হয়ে যায়।

আরো পড়ুন : যষ্টিমধু খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা ও যষ্টিমধু খাওয়ার নিয়ম

এছাড়াও চুলের যত্ন, ত্বকের ছিদ্র সংকোচন করতেও পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়। আশা করি ত্বকে পুদিনা পাতার ব্যবহারের উপকারিতা বুঝতে পেরেছেন। তবে একেটি খেয়াল রাখতে হবে যে অতিরিক্ত ব্যবহার করা যাবে না। কারো কারো ত্বকে পুদিনা পাতা ব্যবহার এলার্জির কারণ হতে পারে। সেজন্য আগে তা পরীক্ষা করে নিতে হবে।

চুলের যত্নে পুদিনা পাতার ব্যবহার ও উপকারিতা

রূপচর্চার মধ্যে যে জিনিসটি আমাদের কাছে বেশি প্রাধান্য পায় তা হচ্ছে চুল। একটি মানুষের সৌন্দর্যের বড় একটি বিষয় হচ্ছে সুন্দর চুল। আমরা সুন্দর চুল পাবার জন্য দৈনন্দিন কত কি করে থাকি। তার জন্য আমরা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম হাজারো জিনিস ব্যবহার করি। আর এগুলোর মধ্যেই প্রাকৃতিক ও কার্যকরী একটি উপাদান হল পুদিনা পাতা। পুদিনা পাতা চুলের জন্য বেশ উপকারী।

আরো পড়ুন : চর্ম রোগে নিম পাতার ব্যবহার - নিম পাতার ক্ষতিকর দিক 

পুদিনা পাতাতে আছে এন্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ও শীতলীকরণ গুণাবলী যা চুলের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। চুলের যত্নের পুদিনা পাতা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। আর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যবহার ও উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো।

  1. পুদিনা পাতা চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে
  2. চুলের খুশকি দূর করে
  3. মাথার ত্বক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে 
  4. চুলের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে
  5. চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে
  6. চুলের আগা ফাটা রোধ করে ইত্যাদি।

আপনি যদি নিয়মিত পুদিনা পাতা চুলে ব্যবহার করেন তাহলে এই সমস্যা গুলো থেকে দূরে থাকতে পারবেন। চুলে পুদিনা পাতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুদিনা পাতা ভালোভাবে পেস্ট করে নিয়ে তার সাথে ডিমের সাদা অংশ, পেঁয়াজের রস ও মধু মিশিয়ে চুলের ব্যবহার করতে পারেন। এটি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার করা যায়। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

রান্নায় পুদিনা পাতার ব্যবহার

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক ও উপকারিতা সহ এতক্ষণে অনেক কিছুই জেনে ফেলেছেন। পুদিনা পাতা শুধু খাওয়া বা রূপচর্চায় ব্যবহার করা হয় না। রান্নার বিভিন্ন রেসিপিতেও রয়েছে পুদিনা পাতার বেশ কদর। আমরা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ধরনের পুদিনা পাতা ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে এটি সুগন্ধের কারণে এটি রান্নার বিভিন্ন রেসিপিতে বেশ জনপ্রিয়।

আরো পড়ুন : থানকুনি পাতার ১৮টি উপকারিতা ও অপকারিতা

পুদিনা পাতা বিভিন্ন ধরনের খাবারে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হল -

  1. পুদিনা পাতার তৈরি চাটনি খাবারে একটি অন্যরকম স্বাদ ও সুগন্ধ যোগ করে।
  2. বিরিয়ানি ও পোলাও রান্নার পরে তার ওপরে পুদিনা পাতা কুচি ব্যবহার করলে খাবারের সুগন্ধ বৃদ্ধি পায়।
  3. সালাদে পুদিনা পাতা কুচি ব্যবহার করলে সুগন্ধ ও সতেজ ভাব বজায় থাকে।
  4. সুপের স্বাদ ও সুগন্ধ বৃদ্ধি করতে পুদিনা পাতা কুচি ব্যবহার করা হয়।
  5. বিভিন্ন ধরনের পানীয় বা শরবতেও পুদিনা পাতার বেশ ব্যবহার রয়েছে।
  6. পুদিনা পাতা বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট বা আইসক্রিম সাজাতেও ব্যবহার করা হয়।
  7. নুডুলস বা পাস্তাতে পুদিনা পাতা কুচি ব্যবহার করলে এর স্বাদ ও সুগন্ধ অনেক বৃদ্ধি পায়।
  8. স্যান্ডউইচ ও রোল তৈরিতে পুদিনা পাতার সস বা চাটনি ব্যবহার করা হয়। এতে করে স্বাদ অনেক বেড়ে যায়।
  9. গ্রিল বা বারবিকিউ সহ আরো বড় বড় খাবারে পুদিনা পাতার বেশ কদর রয়েছে।

এছাড়াও আরো অনেক রান্না বা রেসিপি রয়েছে যেগুলোতে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয়। পুদিনা পাতা খাবারের যেমন স্বাদ, সুগন্ধ ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে তার সাথে সাথে এটি ব্যবহার করার ফলে খাবার দেখতে অনেক আকর্ষণীয় হয়। তাজা পুদিনা পাতা বেশি সুগন্ধ ও স্বাদ প্রদান করে। তবে আপনি শুকনা পাতাও ব্যবহার করতে পারেন। পুদিনা পাতা ফ্রিজে রেখেও সহজেই বেশ কিছুদিন সংরক্ষণ করা যায়।

ভুড়ি কমাতে পুদিনা পাতার উপকারিতা ও ব্যবহার

পুদিনা পাতা পেটের অতিরিক্ত মেদ বা ভুড়ি কমাতেও কিন্তু সাহায্য করে। বর্তমানে আমাদের দেশে এই মেদ জনিত সমস্যাই অনেক মানুষ ভোগেন। তারা মেদ কমানোর জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বা পদ্ধতি গ্রহণ করেন। যদি জানেন তাহলে পুদিনা পাতাকে প্রাকৃতিক ও কার্যকরী মেদ কমানো উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। পুদিনা পাতাতে আমি কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো ভুঁড়ি কমাতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন : শিমুল মূলের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম - শিমুল মূলের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

পুদিনা পাতাতে থাকা উপাদান মেটাবলিজম ত্বরান্বিত করে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট কমাতে সাহায্য। এছাড়াও ভুড়ি কমাতে পুদিনা পাতা যা যা কার্যক্রম সম্পন্ন করে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • পুদিনা পাতার সুগন্ধ খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। যার ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা যায়।
  • পুদিনা পাতা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এর ফলে চর্বি খুব সহজে ভেঙে যায় এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে পারে না।
  • পুদিনা পাতাতে থাকা উপাদান মেটাবলিজম ত্বরান্বিত করে যা শরীরের অতিরিক্ত চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে।
  • পুদিনা পাতা স্ট্রেস বা প্রাকৃতিক শীতলীকরণ গুণ কমায় যা অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার প্রবণতাকে হ্রাস  করে এবং ভুঁড়ি কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
  • পুদিনা পাতা শরীর থেকে টক্সিন দূর করে ফলে পাচক তন্ত্র সুস্থ ও সবল থাকে যা মেদ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ইত্যাদ।

মেদ কমানোর জন্য আপনি পুদিনা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন পুদিনা পাতার চা, পুদিনা পাতার চাটনি বা সস, আদার রসের সাথে পুদিনা পাতার রস, সালাদ হিসেবে ইত্যাদি। পুদিনা পাতার চা সকাল বেলা খালি পেটে খেলে ভালো কার্যকারিতা করা যায়। এর জন্য উপরে পুদিনা পাতার চা বানানোর পদ্ধতি দেয়া আছে। আপনি সে অনুযায়ী করতে পারেন।

পুদিনা পাতা কিভাবে খাব খাওয়ার নিয়ম

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক ও জুসের উপকারিতা সহ এতক্ষণে আরো অনেক ব্যবহার ও উপকারিতা দেখলেন। এখন নিশ্চয়ই পুদিনা পাতা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহ হতে পারে। সব জিনিস খাওয়ারই একটি নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে। অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়। তাই পুদিনা পাতা নিয়মিত অল্প পরিমাণে খাবেন। আমরা এতক্ষনে দেখলাম পুদিনা পাতা বিভিন্নভাবে খাবারের সাথে ব্যবহার করা যায়।

যেমন পুদিনা পাতার চা, পুদিনা পাতার সালাদ, চাটনি, সস, বিভিন্ন ডেজার্ট এর সাথে যোগ করে, তরকারির সাথে যোগ করে ইত্যাদি। পুদিনা পাতা যে কোন কিছুর সাথে যোগ করলে তার স্বাদ, উপকারিতা ও সুগন্ধ বৃদ্ধি করে। মূলত সব খাবারের পুদিনা পাতা ব্যবহার করা হয় এর আকর্ষণীয়তা ও সুগন্ধ বৃদ্ধি করার জন্যই। তাই আপনি যে কোন খাবারে এটি যোগ করতে পারেন।

আর যদি পুদিনা পাতা চা খেতে চান তাহলে সেটি সকাল বেলা খালি পেটে খাওয়াই বেশি উপকারী হবে। পুদিনা পাতার চা আপনি গরম অথবা চাইলে ঠান্ডা করেও খেতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন একসাথে অতিরিক্ত যাতে না হয়। অতিরিক্ত পুদিনা পাতা গ্যাস্ট্রিকের কারণ হতে পারে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে পুদিনা পাতা ব্যবহারের ফলে উপরে বর্ণিত উপকারিতা গুলো গ্রহণ করতে পারবেন।

পুদিনা পাতা কোথায় পাওয়া যায়

বর্তমানে পুদিনা পাতা প্রায় সব এলাকাতেই পাওয়া যায়। বিশেষ করে সবজির বাজারে পুদিনা পাতা পাওয়া যায়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সুপার শপেও পাওয়া যায়। তাছাড়া আপনার আশেপাশে যদি গাছপালার নার্সারি থাকে তাহলে সেখানেও খোঁজ করে দেখতে পারেন। নিজস্বভাবে চাষ করেও পুদিনা পাতা সংগ্রহ করা যায়। এটি চাষ করা তেমন কোন ঝামেলা কর বা বড় কোন কাজ নয়।

আপনি যদি পুদিনা পাতা চান তাহলে আশেপাশে একটু খোঁজ করলেই পেয়ে যাবেন। তবে যদি আপনি খুব প্রয়োজন হয় তাহলে নেট থেকে অল্প পরিসরে চাষ করলেই পারেন।

পুদিনা পাতা চাষ পদ্ধতি

পুদিনা পাতা সুগন্ধ ও ভেষজ গুণ সম্পন্ন একটি পাতা। প্রয়োজনে কোথাও খোঁজা খুঁজি না করে হাতের নাগালে যদি পুদিনা পাতা খেতে চান তাহলে অল্প পরিসরে চাষ করতে পারেন। এটি চাষ করা তেমন কোন ঝামেলার কাজ নয়। খুব সহজেই যেখানে সেখানে এটি করা যায়। এর জন্য আপনার শুধু পুদিনা পাতার কয়েকটি গাছ বা ডাল হলেই হবে। বাড়ি ছাদে অথবা টবে কিংবা যেকোনো জায়গায় এটি করা যায়।

সেঁতসেতে মাটিতে পুদিনা পাতা ভালো হয়। টবে মাটি তুলে সেখানে পুদিনা পাতার ডাল বা গাছ লাগিয়ে একটু যত্ন করলেই কিছুদিন পর সেখান থেকে পাতা সংগ্রহ করা যাবে। পাতা চাষে অনেক বেশি যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন তাও কিন্তু নাই। মাঝে মাঝে একটু পানি দিলেই হবে।

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক - শেষ কথা

পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক, জুসের উপকারিতা সহ আরো অনেক ব্যবহার সম্পর্কে এতক্ষণে আশা করি বিস্তারিত পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন। পুদিনা পাতা ব্যবহারের পর আপনি তখন ক্ষতির সম্মুখীন হবেন যখন তার অতিরিক্ত ব্যবহার করবেন। তবে এটি পরিমাণ মতো ব্যবহারের ফলে আপনি অনেক উপকারিতা গ্রহণ করতে পারবেন।

এর জন্য উপরে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন। পুদিনা পাতার চা খাওয়ার ক্ষেত্রে যদি তা সকালে খালি পেটে খান তাহলে বেশি উপকৃত হবেন। তবে একসাথে অতিরিক্ত ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। আশা করি আজকের পোস্টটি পড়ে সবকিছু বুঝতে পেরেছেন ও উপকৃত হয়েছেন। আজকে এ পর্যন্তই। আল্লাহ হাফেজ😍

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url