গ্রিনটি তৈরির নিয়ম ও আসল গ্রিন টি চেনার উপায়
গ্রিনটি তৈরির নিয়ম ও আসল গ্রিন টি চেনার উপায় আমাদের অনেকেরই অজানা । তাই গ্রিন টি সম্পর্কে যত ধরনের প্রশ্ন রয়েছে তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে এই পোস্টে। শুধুমাত্র প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একবার পড়ে ফেলুন।
গ্রিন টি এর সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত। কিন্তু এটি তৈরীর সঠিক নিয়ম আমাদের বেশিরভাগ লোকেরই জানা না থাকায় আমরা জানার আগ্রহ প্রকাশ করি। বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা গ্রহণ করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত গ্রিন টি ব্যবহার করে থাকি। তাহলে চলুন বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
গ্রিনটি তৈরির নিয়ম ও আসল গ্রিন টি চেনার - সূচিপত্র
- গ্রিনটি তৈরির নিয়ম
- আসল গ্রিন টি চেনার উপায়
- গ্রিন টি তে কি কি উপাদান থাকে
- গ্রিন টি এর উপকারিতা
- সকালে খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার উপকারিতা
- আদা দিয়ে গ্রিন টি খাওয়ার উপকারিতা
- গ্রিন টি এর অপকারিতা
- ওজন কমাতে গ্রিন টি খাওয়ার নিয়ম
- গ্রিন টি খাওয়ার সঠিক সময়
- কোন গ্রিন টি ভালো - ভালো গ্রিন টি চেনার উপায়
- গ্রিন টি এর দাম কত
- গ্রিন টি সংরক্ষণের পদ্ধতি
- গ্রিনটি তৈরির নিয়ম - পরিশেষে
গ্রিনটি তৈরির নিয়ম
গ্রিনটি তৈরির নিয়ম খুবই সহজ। যে কেউ খুব সহজেই গ্রিন টি তৈরি করে ফেলতে পারে। তবে আমরা যে সাধারন চা বানাই তার চেয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। গ্রিন টি তৈরি করতে আপনার প্রয়োজন হবে গ্রিন টি পাতা বা টি ব্যাগ ও গরম পানি। তার সাথে ঐচ্ছিক ভাবে আপনি মধু অথবা লেবুর রস যোগ করতে পারেন।
প্রথমেই আপনাকে পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন যে পানি যেন অতিরিক্ত গরম (১০০° সেলসিয়া এর বেশি) না হয়। পানির তাপমাত্রা ৭৫° থেকে ৮০° সেলসিয়াস এর মধ্যে রাখলে ভালো হয়। মনে রাখবেন যে সরাসরি ফুটন্ত পানি চা পাতার ওপর না দেওয়ািই ভালো হবে। ফুটন্ত গরম পানি নামিয়ে নেওয়ার পরে একটি চায়ের কাপে এক থেকে দুই চামচ চা পাতা অথবা একটি ব্যাগ দিবেন।
আরো পড়ুন : পুদিনা পাতার ক্ষতিকর দিক ও জুসের উপকারিতা
এরপর গ্রিন টি পাতার ওপর গরম পানি আস্তে আস্তে ঢেলে দিবেন। পানি দেওয়ার পর দুই
থেকে তিন মিনিট রেখে দিবেন। খুব বেশিক্ষণ সময় ভিজিয়ে রাখবেন না। এতে করে চা
তিতা হয়ে যেতে পারে। কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখার পর যদি ব্যাগ ব্যবহার করেন তাহলে তা
সরাসরি উঠে ফেলবে আর যদি পাতা ব্যবহার করেন তাহলে তা ভালোভাবে ছেঁকে নিবেন।
এরপর আপনি তা সরাসরি পরিবেশন করতে পারেন। আপনার ইচ্ছেমতো এর সাথে মধু অথবা লেবুর
রস যোগ করতে পারে। যা চা এর স্বাদ বৃদ্ধি করবে। গ্রিন টি এর সাথে চিনি যোগ না
করাই ভালো। কারণ এটি গ্রিন টি এর স্বাস্থ্যগুণ কমিয়ে দিতে পারে। আশা করি তৈরির
নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন। গ্রিন টি তৈরি করা খুবই সহজ একটি
কাজ।
আসল গ্রিন টি চেনার উপায়
গ্রিন টি তৈরির নিয়ম জানার পরে এবার আমরা আসল গ্রিন টি চেনার উপায় সম্পর্কে
জানব। চা আমাদের দেশের খুব জনপ্রিয় একটি পানীয়। প্রতিনিয়ত আমরা এই চায়ের সাথে
ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু সেই চা যদি হয় ভেজালযুক্ত তাহলে আমরা উপকারের
জায়গায় ক্ষতির সম্মুখীন হব। বিশেষ করে গ্রিন টি ঔষধি গুণাবলীর জন্য বেশি
জনপ্রিয়।
আরো পড়ুন : হাতিশুর গাছের শিকড় খাওয়ার নিয়ম ও হাতিশুর গাছের উপকারিতা
আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন ব্রান্ডের চা পাতা পাওয়া যায়। কিন্তু তার
মধ্যে কোনটি আসল কোনটি নকল তা চেনা বড় কঠিন। তাই আমাদের আসল চা পাতা চেনার উপায়
জানা জরুরী। আসেন গ্রিন টি চেনার অনেক কয়েকটি উপায় রয়েছে। তার মধ্যে
উল্লেখযোগ্য কিছু উপায় নিচে বর্ণনা করা হলো।
চা পাতা কেনার সময় আপনি যখন টি ব্যাগ না নিয়ে গোটা পাতা কিনবেন তখন আপনাকে চা
পাতার সজীবতার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আসল গ্রিন টি হবে দেখতে সুন্দর ও
আকর্ষণীয়। যদি চা পাতা ফ্যাকাসে বা খারাপ দেখা যাই তাহলে বুঝতে হবে চা পাতা তার
সজীবতা হারিয়েছে। তার সাথে আপনাকে চা পাতার বর্ণের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
আসল গ্রিন টি এর বর্ণ হালকা থেকে উজ্জ্বল সবুজ হয়ে থাকে। যেহেতু এর ওপর
ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়া চালানো হয় না তাই এর রং সবুজই থাকে। কিন্তু যদি পাতার
রং সবুজ না হয়ে বাদামি বর্ণ ধারণ করেছে তাহলে বুঝতে হবে পাতার গুণগত মান
অক্ষুন্ন নেই। তাই দেখে শুনে টাটকা সবুজ বর্ণের চা পাতা কিনতে করতে হবে।
ভালো চা পাতা চেনার আরেকটি উপায় হচ্ছে, আপনি যখন চা পাতা গরম পানিতে দিবেন তখন
এটি আস্তে আস্তে রঙ ছাড়বে। কিন্তু যখন দেখবেন চা পাতা পানিতে দেওয়ার সাথে সাথে
পর্যাপ্ত পরিমাণের রং ছাড়ছে তখন বুঝতে হবে এতে ভেজাল আছে বা রং মেশানো আছে। ভালো
মানের গ্রিন টি চেনার জন্য আপনি এর ঘ্রাণ ও গন্ধের ওপর খেয়াল রাখবেন। আসল গ্রিন
টি এর স্বাদ ও গন্ধ অতুলনীয়।
সাধারণত গ্রিন টি এর স্বাদ হালকা তবে খুব দারুণ হয়ে থাকে। গ্রিন টিতে স্বাদ
কাঁচা শাক বা সবজি অথবা অনেকটা ঘাসের গন্ধ থাকে। আসল গ্রিন টি মিষ্টি, তিতা অথবা
কষাটে স্বাদের হয়ে থাকে। এছাড়াও আসল গ্রিন টি চেনার জন্য আপনি নজর রাখবেন পাতার
আকারের উপর। যখন গ্রিন টি ব্যাগ কিনবেন তখন আপনি এর আকার ভালোভাবে বুঝতে পারবেন
না। তাই আপনি খোলা গোটা পাতা কিনতে পারেন।
আরো পড়ুন : পালং শাকে কি এলার্জি আছে, পালং শাকের উপকারিতা অপকারিতা
আসল গ্রিন টি এর খোলা গোটা পাতা কেনার সময় দেখবেন যে, এগুলো আকারে বড় হয়ে
থাকে। সাধারণত আসল গ্রিন টি এর দামও একটু বেশি হয়ে থাকে। আরেকটি দিকে খেয়াল
রাখবেন সেটি হচ্ছে চা পাতা উৎপাদনের মেয়াদ। সাধারণত চা পাতা উৎপাদনের ১২ থেকে ১৮
মাস পর্যন্ত মেয়াদ থাকে। এরপর সেই চা পাতা না খাওয়াই ভালো হবে। সব থেকে ভালো
হবে ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে উৎপাদন হয়েছে এমন পাতা নির্বাচন করা।
অনেক সময় চা পাতা উৎপাদনের তারিখ মনে পড়ে প্যাকেটিং করার সময় দেয়া হয়। এতে
করে কয়েক মাস পরে তারিখ দেয়া পরে। তাই উচিত হবে দুই থেকে তিন মাস বাদ দিয়ে
উৎপাদনের তারিখ হিসাব করে নেওয়া। আশা করি উপরের এই উপায় গুলো আপনাকে আসল গ্রীন
টি চিনতে সাহায্য করবে।
গ্রিন টি তে কি কি উপাদান থাকে
আগে আপনাদেরকে বলেছি যে আমরা শুধু গ্রিন টি তৈরি নিয়ম গ্রিন টি চেনার উপায়ই
দেখবো না, দিনটি সম্পর্কে যাবতীয় সবকিছু বিস্তারিত জানবো। তাই গ্রিন টি এর
উপকারিতা ও অপকারিতা জানার আগে আমরা যদি এতে কি কি উপাদান থাকে তা জানিয়ে তাহলে
অন্যান্য বিষয় আমাদের জন্য সহজ হবে। তাই এখন আমরা দেখব গ্রীনটিতে কি কি উপাদান ও
ঔষধি গুনাগুন থাকে।
আরো পড়ুন : বড়দের হরলিক্স খাওয়ার নিয়ম
প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের জনপ্রিয় পানীয় চা পান করে থাকি। তার মধ্যে অনেকেই বিশেষ
করে গ্রিন টি বিভিন্ন ঔষধি গুনাগুনের জন্য পান করে থাকে। তাছাড়া এটি আমাদের
শরীরের জন্যও অন্যান্য চা পাতার থেকে অনেক বেশি উপকারী। তাই অনেক সময় ডাক্তাররাও
এই গ্রিন টি খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। চলুন তাহলে আমরা এক নজরে দেখে নিই
গ্রিন টিতে কি কি উপাদান থাকে।
- গ্রিনটিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
- আরো থাকে ক্যাফেইন
- এল থিয়ানাইন
- ফ্ল্যাভোনয়েডস
- পলিফেনলস
- ট্যানিনস
- ক্লোরোফিল
- থিয়ব্রোমিন
- স্যাপোনিন্স
- ভিটামিন সি
- ভিটামিন বি২ বি৩
- ভিটামিন ই
- ম্যাগনেসিয়াম
- পটাশিয়াম, জিংক ইত্যাদি।
ভালো মানের গ্রীন টিতে উপরের এইসব উপাদান গুলো থাকে। এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরের
জন্য অনেক উপকারী। তাছাড়া গ্রিন টি শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতেও কিন্তু বেশ
কার্যকরী। শরীরের ওজন কমাতে অনেকেই নিয়মিত গ্রিন টি পান করে থাকে। এখন আমরা
গ্রীন টি সম্পর্কে বিস্তারিত আরো অনেক কিছু দেখব।
গ্রিন টি এর উপকারিতা
গ্রিন টি তৈরির নিয়ম ও আসল গ্রিন টি চেনার উপায় দেখার সাথে সাথে আমরা ইতোমধ্যে
গ্রিনটিতে কি কি উপাদান থাকে তাও দেখে ফেললাম। এবার আমরা গ্রিন টি এর উপকারিতা
বিস্তারিত দেখব। গ্রিনটিতে থাকা ওষুধে গুণাবলীর কারণে গ্রিন টি আরো বেশি জনপ্রিয়
হয়ে উঠেছে। গ্রীন টি যেমন জনপ্রিয় একটি পানীয় তার সাথে সাথে অন্যান্য চায়ের
চেয়ে উপকারীও বটে।
তাই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এড়াতে গ্রিন টি ওষুধ খাওয়ার মতও পান করে থাকে। গ্রিন
টি রং চা বা লাল চা এর মত রংবিশিষ্ট্য হয়না। গ্রিন টি এর রং হালকা হলদে সবুজ
হয়। খেতেও ঘাসের মত একটি স্বাদ থাকে। তাহলে চলুন আমরা এত কথা না বাড়িয়ে গ্রিন
টি খাওয়ার উপকারিতা গুলো এক নজরে দেখে নিই।
- গ্রিন টি আমাদের শরীরে মেটাবলিজম বাড়িয়ে শরীরে থাকা অতিরিক্ত চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরের ওজন কমানো সহজ হয়।
- বিশেষ করে পেটের চর্বি কমাতে বেশ কার্যকরী। তবে গ্রিন টি খেলে যে ওজন কমবে এমনটা নয়।
- গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের শরীরের কোষ কে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং বার্ধক্যের প্রভাব কমায়।
- গ্রিন টি রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তনালীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে যার ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।
- রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় যা ডায়াবেটিস ২ এর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
- গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সাধারণত ঠান্ডা ও কাশি প্রতিরোধেও বেশ কার্যকরী।
- গ্রিন টিতে থাকে পলিফেনল যা কোষ কে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং ত্বক উজ্জ্বল রাখে। ব্রণ ও ত্বকের জন্য গ্রিন টি অনেক বেশি উপকারী।
- গ্রিন টি হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়ক।
- এটি ক্যান্সার প্রতিরোধও সাহায্য করে। বিশেষ করে ব্রেস্ট, পোস্টেট ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে থাকে ইত্যাদি।
এ ছিল গ্রিন টি এর উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতা। এছাড়া ওজনটি খাওয়ার আরো অনেক
উপকারিতা রয়েছে যার অনেক কিছুই হয়তো বা আপনারা জানেন। অনেকে এর অনেক উপকারিতা
জানার পর সেই উপকারিতা গুলো পাওয়ার জন্য নিয়মিত গ্রিনটি পান করে থাকে। আপনি যদি
নিয়মিত গ্রিন টি পান করেন তাহলে উপরে বর্ণিত এই উপকারিতা গুলো পেতে পারেন।
সকালে খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার উপকারিতা
সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠার পরে চায়ের কাপে চুমুক না দিলে যেন দিন শুরুই হয় না।
বর্তমানে প্রায় সকল মানুষেরই একটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার
পরেই চা। আর সেটা যদি হয় গ্রীন টি। আমরা চা তো সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত
যেকোনো সময় খেয়ে থাকি। তবে সকাল বেলা খালি পেটে চা খাওয়ারও কিন্তু আলাদা একটি
উপকারিতা হয়েছে।
আরো পড়ুন : হাঁসের ডিমে কি এলার্জি আছে - হাঁসের ডিমের ক্ষতিকর দিক
এখন কথা হচ্ছে আমরা যদি সকাল বেলা নিয়মিত গ্রিন টি পান করি তাহলে কি কি উপকারিতা
পাওয়া যাবে তাই তো ? অনেকেই এই বিষয়টি জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সকালবেলা
খালি পেটে গ্রিন টি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে তবে এটি নির্ভর করবে আপনার
শরীরের সহনশীলতার ওপর। কিছু ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে আবার কিছু ক্ষেত্রে এর
থেকে সতর্ক থাকাও দরকার হতে পারে।
- তাহলে চলুন কথা আর না বাড়িয়ে সকাল বেলা খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার উপকারিতা গুলো দেখে নেয়া যাক।
- সকালবেলা গ্রিন টি খাওয়ার ফলে শরীরে মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায় যা অতিরিক্ত চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে।
- গ্রিন টি তে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে।
- গ্রিন টিতে থাকে ক্যাফেইন এবং থিয়ানাইন যা সকালবেলা শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
- সকালবেলা গ্রিন টি খাওয়ার ফলে ত্বক দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুস্থ থাকে।
- গ্রিনটিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে সতেজ রাখে যা ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।
- গ্রিন টি তে পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সর্দি কাশি ও অন্যান্য সংক্রমনের হাত থেকে দূরে রাখে।
এছাড়াও সকাল বেলা খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার ফলে আরো অনেক উপকারিতা পাওয়া
যায়। মাঝে মাঝে খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার ফলে কিছু সমস্যাও হতে পারে। বিশেষ
করে কিছু কিছু লোকের খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার ফলে অম্লতা বা গ্যাস জনিত সমস্যা
হতে পারে। আবার শরীরে পুষ্টি উপাদান শোষণ কমে যেতে পারে। তাই আপনার যদি খালি পেটে
গ্রিন টি খাওয়াতে সমস্যা হয় তাহলে তা থেকে সতর্ক থাকাই ভালো।
আদা দিয়ে গ্রিন টি খাওয়ার উপকারিতা
আমরা যখনই লাল চা বা রং চা খায় তার সাথে আদায থাকেই। চা এবং আদা দুটোই খুবই
উপকারী জিনিস। যদিও চায়ের সাথে চিনি খাওয়া ঠিক নয়। তবে আদা অনেক উপকারী। আদা
আমাদের জীবজন্তুর জন্য অনেক অনেক বেশি উপকারী। আমরা প্রতিনিয়তই লাল চা বা রং চা
এর সাথে আদা খেয়ে থাকি। অনেকে এই চা কে আদা চা ও বলে থাকে।
আরো পড়ুন : কলমি শাক খেলে প্রেসার বাড়ে না কমে - কলমি শাকের ক্ষতিকর দিক
আপনারা জানেন যে আদা কতটা উপকারী একটি জিনিস। আর তার সাথে ইতিমধ্যে আপনারা
জেনেছেন গ্রিন টি এর উপকারিতা। এই দুইটি জিনিসের সংমিশ্রণ কতটা উপকারী হতে পারে
একবার চিন্তা করে দেখুন। আদা দিয়ে গ্রিন টি খুবই পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর একটি
পানীয়। গ্রিন টি তে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট ও আদার প্রাকৃতিক গুণাবলী আমাদের
শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী।
আদা ও গ্রিন টি একসাথে খাবার ফলে এটি আমাদের শরীরের স্ট্রেট কমায়। শুধু তাই নয়
শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতেও বেশ কার্যকরী গ্রিন টি ও আদা। এই পানীয় টি
ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধেও লড়াই করে এবং শ্বাসকষ্ট জনিত
প্রতিরোধও বেশ কার্যকরী। সর্দি, গলা ব্যথা ও খুসখুসে কাশির জন্য আদা চা বেশ
কার্যকরী।
বিশেষজ্ঞদের মতে আদা ও গ্রিন টি একত্রে পান করা ডায়াবেটিস, পিরিয়ডকালীন সময়
এবং হাঁপানির জন্যও বেশ উপকারী। এই পানীয় ওজন নিয়ন্ত্রণে বেশ সহায়ক। গ্রিন টি
ও আদা শরীরের প্রদাহ কমাতে ও হজম শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। আদা দিয়ে গ্রিন
টি খাওয়ার ফলে হৃদযন্ত্রের অসাধারণ রকমের উপকারিতা পাওয়া যায়। আদার প্রাকৃতিক
প্রদাহ নাশক গুণ শরীরের ও রক্তনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুন : পাথরকুচি পাতার ক্ষতিকর দিক - খালি পেটে পাথরকুচি পাতা খেলে কি হয়
ঠান্ডার জন্য তো যেই সমস্যা গুলো দেখা দেয় সেগুলো দূর করতে আদা দিয়ে গ্রিন টি
খেতে পারেন। তবে আদা দিয়ে গ্রিন টি পান করার সময় অবশ্যই কিছু বিষয়ে সতর্ক
থাকবে। যেমন চায়ের সাথে একসাথে অনেক বেশি পরিমাণে আদা ব্যবহার করবেন না। এতে করে
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। গর্ভকালীন সময় গ্রিন টি খাবার ক্ষেত্রে
ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।
প্রতিদিন দুই থেকে তিন কাপের বেশি গ্রিন টি না খাওয়ায় ভালো হবে। গ্রিন টিতে
চিনি ব্যবহার না করাই উত্তম। চিনির পরিবর্তে আপনি স্বাদ একটু বৃদ্ধি করতে মধু বা
লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। আশাকরি আদা দিয়ে গ্রিন টি খাওয়ার উপকারিতা ও
সতর্কতা গুলো বুঝতে পেরেছেন।
গ্রিন টি এর অপকারিতা
গ্রিন টি তৈরির নিয়ম ও আসল গ্রিন টি চেনার উপায় এর সাথে সাথে আমরা ইতোমধ্যে
গ্রিন টি পান করার উপকারিতা বিস্তারিত জেনেছি। গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর ও উপকারী বলে
বিবেচিত হলেও নিয়মিত ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কিছু কিছু সময় এর পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়া বা অপকারী দিক দেখা যায়। ইতিমধ্যে আপনাদেরকে বলেছি যে সকাল বেলা
খালি পেটে গ্রিন টি খাওয়ার ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ারও সম্ভাবনা থাকে।
আরো পড়ুন : যষ্টিমধু খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা ও যষ্টিমধু খাওয়ার নিয়ম
গ্রিন টিতে অপকারের তুলনায় উপকারের পরিমাণই বেশি। বিশেষ করে সকালবেলা খালি পেটে
খাবার ফলে বেশি সুন্দর না থাকে। গ্রিনটিতে থাকি ট্যানিনস যা, পেটের অম্লতা ভাব
বৃদ্ধি করে গ্যাস জনিত সমস্যা করতে পারে। গ্রিনটিতে অল্প পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে
তবে অতিরিক্ত পান করার ফলে এটি স্নায়ু উদ্দীপিত করে এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে
পারে।
গ্রিন টিতে থাকা টেনিন্স ও পলিফেনাল শরীরে আয়রন শোষণে ব্যাঘাত ঘটায় ফলে আয়রন সেশন কমে যায়। এতে ক্যাফেইন থাকায় এটি হৃদ স্পন্দন দ্রুত করতে পারে যা কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অস্বীকার হতে পারে। সকালবেলা খালি পেটে এক্স গ্রিন টি খাবার ফলে পেটব্যথা, আলসার, অম্লতা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গর্ভকালীন সময় গ্রিন টি পান করা ঝুঁকির হতে পারে। কারণ এতে ক্যাফেইন থাকে। ক্যাফেইন ভ্রূণের ক্ষতি করার সম্ভাবনা থাকে। তাই গর্ভকালীন সময়ে গ্রিন টি খেতে চাইলে অবশ্যই আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। যারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাদের জন্য খালি পেটে গ্রিনটি না খাওয়াই ভালো হবে। কেননা এতে থাকা ক্যাফেইন হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি করে ফেলে রক্তচাপও বৃদ্ধি পায়।
অনেক সময় ক্যাপসুল আকারে গ্রিন টি এর এক্সট্র্যাক্ট অনেকে ব্যবহার করে থাকে। এটি
কিন্তু লিভারের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত গ্রীন টি পান মূত্র বর্ধক হিসেবে কাজ করে।
যা শরীর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বের করে দেয় ফলে ডি হাইড্রেশন হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে। আপনি এই সমস্যা গুলোর সম্মুখীন তখনই হবেন যখন গ্রিন টি অতিরিক্ত
বা অনিয়মিত ব্যবহার করবেন।
আরো পড়ুন : থানকুনি পাতার ১৮টি উপকারিতা ও অপকারিতা
তাই অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং যদি পারেন ডাক্তারের পরামর্শ অনুভূতি
পান করবেন। এতে করে আশা করা যায় কোন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবেন
না। আশা করি দিনটি এর অপকারিতা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন।
ওজন কমাতে গ্রিন টি খাওয়ার নিয়ম
বর্তমানে অতিরিক্ত ওজন, এই সমস্যাটির সম্মুখীন প্রায় সব মানুষই হচ্ছে। শুধু
তাই নয়। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কত টাকা পয়সা ও কত সময় ব্যয় করছে
তার কোন ঠিক নেই। আমরা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন বিভিন্ন ধরনের
নিয়ম কানুন থেকে শুরু করে খাবার দাবার সবকিছু মেনে চলি। তবুও যেন শরীরের
অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে আমাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হতে
হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের সর্বপ্রথম শর্ত হচ্ছে সঠিক ডায়েট প্ল্যান গ্রহণ করতে হবে।
আপনি যতই নিয়ম কানুন মানুন আর যত কিছুই খান না কেন সঠিক ডায়েট প্ল্যান না মানলে
ওজন নিয়ন্ত্রণ করা আরো বেশি কঠিন হয়ে যাবে। আপনারা অনেকেই জানেন যে গ্রিন টি
ওজন কমাতে সাহায্য করে।
কিন্তু গ্রিন টি খেলেই যে ওজন কমে যাবে এমনটা নয়। তবে গ্রিন টি একটি ভেষজ
পানীয়। যা শরীরে কিছু কিছু কার্যক্রম সম্পাদন করে যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য
করে। তাহলে আমরা এখন দেখব যে, গ্রিন টি কোন নিয়মে খেলে ওজন কমাতে সুবিধা হবে।
আমাদের প্রথম যে সমস্যাটি হচ্ছে আমরা অনেকে মনে করি যে, একসাথে দুইটি টি ব্যাগ বা বেশি পরিমাণে চা পান করলে শরীরে বেশি চর্বি বার্ন হবে। কিন্তু এটি আসলে ভুল ধারণা। এমনটা কখনো করবেন না এক কাপে একটি ব্যাগ ব্যবহার করবেন।। দিনে দুই থেকে তিন কাপ গ্রিন টি খাওয়া যথেষ্ট। আবার অনেক সময় মনে করি সকালবেলা খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে তাড়াতাড়ি চর্বি গলে যায়।
সাধারণত এই ধারণাটিও ভুল। সকাল বেলা খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে অম্লতা বা
গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। গ্রিন টি খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে বড় খাবার
ব্যবহারিক খাবার খাবার ৩০ মিনিট আগে বা পরে। এটি চর্বি বার্ন করতে এবং খাবার হজম
করতে সাহায্য করে। গ্রিন টি রাতে ঘুমানোর আগে না খাওয়াই ভালো হবে। কারণ এটি
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
আরো পড়ুন : বিচি কলা ও সাগর কলা খাওয়ার কার্যকরী ২৫টি উপকারিতা
তাই আপনি বিকেল বেলাও গ্রিন টি পান করতে পারেন। একটি কথা মনে রাখবে গ্রিন টি তৈরি
সময় টগবগে গরম পানি ব্যবহার করবেন না। একটু কম গরম পানি গ্রিন টি এর জন্য ভালো।
গ্রিন টি পাতা ও পানি একসাথে জাল করবেন না। গ্রিন টি এর সাথে চিনি জব করে খাওয়া
ঠিক নয়। তবে চাইলে মধু বা লেবুর রস যোগ করতে পারে। ওজন কমানোর জন্য এই পদ্ধতি
গুলো অবলম্বন করবেন।
গ্রিন টি খাওয়ার সঠিক সময়
গ্রিন টি খাওয়ার সঠিক কিছু সময় আছে। গ্রিন টি এর সকল গুনাগুন যদি আপনি গ্রহণ
করতে চান তাহলে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন মেনে গ্রীন টি পান করতে হবে। ইতোমধ্যে
আপনাদের সাথে নিয়ম কানুন গুলো আলোচনা করেছি। এখন বলব সঠিক সময়। গ্রিন টি
খাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়টি হচ্ছে সকালবেলা খাবার খাওয়ার আধাঘন্টা পরে এবং
ব্যায়াম করার আধা ঘন্টা আগে।
সকাল বেলা খালি পেটে গ্রিন টি পান করা থেকে এড়িয়ে চলবেন। সকালে নাস্তার পর
গ্রিন টি পান করার একটি উপযুক্ত সময়। এছাড়াও আমরা যখন দুপুর অথবা রাতের খাবার
খায় তার আধা ঘন্টা আগে বা পরে খাওয়া যায়। তবে কখনোই তা খালি পেটে খাবেন না। এক
কথায় দুটি ভারী খাবারের মাঝামাঝি গ্রিন টি খাওয়া সবচেয়ে ভালো হবে। বিকেল বেলাও
এটি পান করার ভালো একটি সময়।
অনেক সময় রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে গ্রিন টি খাওয়ার ফলে ঘুমে ব্যাঘাত করতে পারে।
তাই রাতে যদি দিনটি খেতে চান তাহলে খাবার খাওয়ার আধা ঘন্টা বা ১ ঘন্টা আগে খেয়ে
নিতে পারেন। আশা করি দিনটি খাবার সঠিক সময় সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। আবারো বলছি
সকাল বেলা খালি পেটে গ্রীনটি পান করা থেকে বিরত থাকবে।
কোন গ্রিন টি ভালো - ভালো গ্রিন টি চেনার উপায়
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের পাওয়া যায়। তবে ভালো মানের
রিংটি নির্বাচন করার জন্য কিছু কিছু বিষয় খেয়াল করতে হবে। ভালো মানের গ্রিন টি
এর কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ভালো মানের গ্রিন টি নির্ভর করে তার উপাদান, গুণগতমান,
স্বাদ ও গন্ধের উপরে। তাই এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে ভালো মানের গ্রিন টি
নির্ধারণ করতে হবে।
তবে আপনি বাজারে যদি কিনতে যান তাহলে অবশ্যই আগে জেনে নিবেন সেটি অর্গানিক কিনা।
বাজারে অর্গানিক নন অর্গানিক বিভিন্ন ধরনের গ্রিন টি পাওয়া যায়। গ্রিন টি এর
মধ্যে সবচেয়ে ভালো হয় অর্গানিক গ্রিন টি। তাই যেই দেশবাসী স্থানেরই গ্রিন টি
হোক না কেন আগে দেখে নিবেন তা অর্গানিক কিনা। এছাড়াও আরো অনেক বিষয় বিবেচনায়
রাখতে হবে। যেমন,
উৎপাদনের স্থান। বিশেষ করে জাপান, চীন ও দার্জিলিং অঞ্চলের গ্রিন টি এর মান ভালো
হয়। তাই নেওয়ার আগে অঞ্চল দেখে নিবেন। ভালো মানের গ্রিন টি এর তাজা স্বাদ ও
ঘ্রাণ থাকবে। রং হালকা হলদে সবুজ বা সোনালী রঙের হবে। এছাড়াও কিনা সময় ১০০%
বিশুদ্ধতা যাচাই করে নিবেন। প্রাকৃতিক ও কোনরকম প্রিজারভেটিভ ছাড়া দেখে
নিবেন।
এছাড়াও গন্ধ ও রং, বিশুদ্ধতার পরিমাণ, ক্যাফেইনের মাত্রা, উৎপত্তির স্থান এই
সবগুলো দেখে শুনে নিতে হবে। এই সব তথ্য প্যাকেটের গায়ে লিপিবদ্ধ করা থাকে।
বিভিন্ন জনে বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ড পছন্দ করে থাকে। তাই আপনি এই সকল বিষয়
বিবেচনায় রেখে আপনার পছন্দের ব্র্যান্ড অনুযায়ী আপনি কিনতে পারেন।
আন্তর্জাতিক, অন্যান্য দেশ এবং বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও ভালো ভালো কিছু ব্র্যান্ডের
গ্রিন টি পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এরকম ভালো ও বিশ্বস্ত কিছু ব্র্যান্ড হলো
ইস্পাহানি, টেটলি, কাজী এন্ড কাজী ও ফিনলে। বাংলাদেশের এই গানগুলোই মোটামুটি ভালো
পর্যায়ের গ্রিন টি।
গ্রিন টি এর দাম কত
দিনটি তৈরির নিয়ম ও আসলে কি চেনার উপায় জানার সাথে সাথে আমরা এতক্ষণে কত কিছুই
জেনে ফেলেছি তাই না ? অনেকেই জানতে চাই গ্রিন টি এর দাম সম্পর্কে। বর্তমানে
বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গ্রিন টি পাওয়া যায়। আর এসবের দামও ভিন্ন ভিন্ন
হয়ে থাকে। বিশেষ করে গ্রিন টি এর দাম ব্র্যান্ড, প্যাকেজিং ও পরিমাপের ওপর
নির্ভর করে।
বর্তমানে বাংলাদেশের কিছু জনপ্রিয় ও ভালো মানের গ্রিন টি এর পরিমাপসহ দাম নিচে
উল্লেখ করা হলো। তবে এই দাম বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস, অনলাইন বা বাজারে সামান্য কম
বেশি হতে পারে। এই মূল্যটি দারাজ থেকে ছাড় দেয়া মূল্য তুলে ধরা হলো।
- টেটলি গ্রিন টি ব্যাগ মাসালা ৩৫ গ্রাম ১২০ টাকা
- কাজী এন্ড কাজী গ্রিন টি ৬০ গ্রাম ২১৪ টাকা
- ইস্পাহানি ব্লেন্ডারস চয়েজ প্রিমিয়াম গ্রিন টি ৭০ গ্রাম ১৯৭ টাকা
- কাজী এন্ড কাজী গ্রীন মিন্ট টি বক্স ৩৭.৫ গ্রাম ২৯৯ টাকা
- টুইনিংস গ্রিন টি এন্ড লেমন ২৫ টি ব্যাগ ৬৩০ টাকা
- কাজী এন্ড কাজী গিনজার টি বক্স চ ৪০ টি ব্যাগ ২১৪ টাকা
- কাজী অ্যান্ড কাজী গ্রীন লেমুঙ্গারস ৪০টি ব্যাগ ৬০ গ্রাম ২১৯ টাকা
- টুইনিংস পিওর গ্রিন টি ৫০ গ্রাম ৮০০ টাকা
- কাজী এন্ড কাজী অর্থোডক্স গ্রিন টি ১০০ গ্রাম ২১৪ টাকা
- টুইনিংস গ্রীন টি এন্ড লেমন ২৫ টি ব্যাগ ৮৫০ টাকা
এই ছিল আমাদের দেশের জনপ্রিয় কিছু ব্র্যান্ডের গ্রিন টি এর পরিমাণ ও মূল্য
তালিকা। এটি দারাজ এর ছাড় মূল্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে আরো অন্যান্য জায়গায় এর
থেকে কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। আশাকরি দাম সম্পর্কে একটু হলেও ধারণা
পেয়েছেন।
গ্রিন টি সংরক্ষণের পদ্ধতি
গ্রিন টি দীর্ঘদিন ধরে ভালো রাখতে ও এর গুণগত মান ঠিক রাখতে এর সংরক্ষণ পদ্ধতি
সম্পর্কে জানতে হবে। তাছাড়া এটি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবে, পুষ্টি গুণও হারাবে
এবং স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যাবে। গ্রিন টি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করতে ও এর
গুনাগুন সঠিক রাখতে বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতি গুলো যদি আপনি অনুসরণ করেন
তাহলে এটি সংরক্ষণ করা সহজ হবে।
গ্রিন টি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করার জন্য যে পদ্ধতিগুলো রয়েছে তার মধ্যে
উল্লেখযোগ্য কিছু পদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো।
- প্রথমত যে বিষয়টি তা হচ্ছে এই দিনটি যদি আপনি কাঁচের জারে করে রাখেন তাহলে এটি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
- আরেকটি বিষয় দিক লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি হচ্ছে আদ্রতা। আর্দ্রতা চা পাতার সবচেয়ে বড় শত্রু।
- তাই চা পাতা অবশ্যই শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করবেন।
- খেয়াল রাখবেন যাতে চা পাতা অন্যান্য কোন গন্ধ যুক্ত জিনিসের আশেপাশে না রাখা হয়। অন্যথায় এর স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তন হতে পারে।
- সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে খুব বেশি আলো রয়েছে এমন জায়গায় গ্রিন টি সংরক্ষণ করবেন না। এতে করে গ্রিন টি এর গুণগতমান হ্রাস পায়।
- গ্রিন টি খুব বেশি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে এটি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। তাই এটি খুব বেশি গরম বা খুব ঠান্ডাতে সংরক্ষণ করবেন না। সাধারণত চা পাতা রুম টেম্পারেচরে সংরক্ষণ করাই ভালো।
- অনেকে মনে করেন চা পাতা ফ্রিজে রাখলে দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। কিন্তু এটি মোটেও করবেন না। যখন এটি ফ্রিজ থেকে বের করা হয় তখন তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে গুণগত মানের কম বেশি হতে পারে।
এই পদ্ধতি গুলো অবলম্বন করে আপনি গ্রিন টি বা চা পাতা দীর্ঘদিন গুণগত মান অটুট রেখে সংরক্ষণ করতে পারেন। এক কথায় বলতে গেলে বায়ুরোধী, শুষ্ক ও অন্ধকার, না গরম না আদ্রতা, আর না দুর্গন্ধযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করবেন।
গ্রিনটি তৈরির নিয়ম - পরিশেষে
গ্রিন টি তৈরি নিয়ম ও আসল গ্রিন টি চেনার উপায়ই শুধু আমরা এতক্ষণে দেখিনি। এর
সাথে সাথে গ্রিন টি সম্পর্কে বিস্তারিত যতরকম প্রশ্ন হতে পারে তার সবগুলোর সমাধান
বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন এবং উপকৃত
হয়েছেন। আসলে গ্রিন টি তৈরি খুব কঠিন একটি কাজ নয়। অন্যান্য চায়ের মত গ্রিন টি
ও তৈরি করা খুব সহজ।
খেয়াল রাখবেন গ্রিনটি তৈরীর সময় যাতে টগবগে গরম পানি না দেওয়া হয়। একটু কম
গরম পানি দিয়ে তার ভেতরে চা পাতা দিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করবেন। গ্রিন টি এর
সাথে চিনি যোগ না করাই উত্তম। চাইলে আপনি তার সাথে মধু অথবা লেবুর রস যোগ করতে
পারে। আর আসল চেনার জন্য উপরোক্ত যেই উপায় গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো
অনুসরণ করলেই বুঝতে পারবেন। আজকে এই পর্যন্তই। আল্লাহ হাফেজ😍
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url